স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির দাবিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কক্ষ নং–৩৩২, ভবন নং–৩, বাংলাদেশ সচিবালয়) অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকারি হাসপাতালে হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম এর সভাপতি জনাব মোঃ আজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর, সিনিয়র সহসভাপতি এস এম আনোয়ার মাজিদ তারেক, প্রচার সম্পাদক মোঃ মমিনুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এন্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে ফার্মাসিস্টদের অন্তর্ভুক্তি, পেশাগত মান উন্নয়ন, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে অবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি সহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম। এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে যে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো—
১। সকল সরকারি হাসপাতালে হসপিটাল ও ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি সেবা চালু করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ। উন্নত বিশ্বের আদলে ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মতে বাংলাদেশের সকল সরকারী হাসপাতালে হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী সেবা চাল করে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে।
২। বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ফার্মাসিস্ট অন্তর্ভুক্তি করতে হবে।
৩। স্বতন্ত্র ফার্মেসি পরিদপ্তর গঠন। একটি স্বতন্ত্র ফার্মেসী পরিদপ্তর গঠন করতে হবে, যা হসপিটাল ফার্মেসী এবং ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী কার্যক্রমের কার্যকারিতা এবং মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
৪। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফার্ম ডি প্রোগ্রাম চালু ও বি ফার্ম থেকে পর্যায়ক্রমে রূপান্তর। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারী ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী প্রোগ্রামকে বি ফার্ম থেকে ফার্ম ডি -তে রূপান্তর করতে হবে।
৫। সরকারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে “ফার্মাসিস্ট” ও “ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট” পদবির সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এবং উন্নত বিশ্বের ন্যায় ফার্মাসিস্ট বলতে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টকেই বুঝায়, তাই ফার্মেসীতে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি নিয়োগের সকল সার্কুলারে “ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট” শব্দটি নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
৬। ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিজিডিএ)-এ ড্রাগ সুপার পদে শুধুমাত্র গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ এবং ফার্মেসী কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর রেজিস্ট্রেশনবিহীন ব্যক্তিদের অবৈধ ফার্মেসি প্র্যাক্টিস বন্ধ করতে হবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ফার্মাসিস্টদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দক্ষ জনবল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ফোরামের নেতৃবৃন্দ একই দাবিগুলো তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে জনসচেতনতা ও জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম এর সভাপতি মোঃ আজিবুর রহমান বলেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ১০,০০০ জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তত ১ জন ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন এবং উন্নত বিশ্বে প্রতি ২০ শয্যার বিপরীতে ১ জন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ একটি স্বীকৃত মানদণ্ড। অথচ বাংলাদেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্টের কোনো পদ নেই, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন দেশে বর্তমানে প্রায় ২৫,০০০ রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট এবং শিক্ষারতসহ প্রায় ৩৫,০০০ ফার্মাসিস্ট রয়েছে। এই দক্ষ ফার্মাসিস্ট বৃন্দ দেশে-বিদেশে ওষুধ শিল্প, গবেষণা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূলধারায় তাদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি এখনো নিশ্চিত হয়নি।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান তানভীর বলেন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, ওষুধের পারস্পরিক ক্রিয়া (ড্রাগ ইন্টারঅ্যাকশন) ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে হাসপাতালভিত্তিক ফার্মাসিস্ট নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
মতবিনিময় সভা শেষে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরামের নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি আধুনিক, বৈজ্ঞানিক ও রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফার্মাসিস্টদের যথাযথ অন্তর্ভুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক 











