Dhaka ১১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

চিকিৎসকদের শুধু রোগ নিরাময় নয়, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণও নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১১জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের কাজ শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবনের জন্য দেওয়া একটি মহান সেবা। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর পর সবচেয়ে বেশি ভরসা করে একজন চিকিৎসকের ওপর।

তিনি বলেন, জীবনে শুধু নেওয়ার নয়, দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিজের ব্যাংকিং জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চাকরির শুরুতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কিছু করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও মোরাল এথিকস আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর চিকিৎসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠে কাজ করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাই চিকিৎসকদের প্রকৃত অবদান, এটাই তাদের নৈতিকতা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারাদেশে সমান মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও সমানভাবে সেই সেবার দাবিদার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একই মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব করা যাবে না। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের পাংচুয়ালিটি (সময়নিষ্ঠা) ও মেডিকেল এথিকস বজায় থাকলে দেশের মানুষের কাছে চিকিৎসকরা সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

হাসিমুখে কথা বলা রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে

Update Time : ০৭:৫০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

চিকিৎসকদের শুধু রোগ নিরাময় নয়, মানবিকতা, নৈতিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের হাসিমুখে কথা বলা একজন রোগীকে অর্ধেক সুস্থ করে দিতে পারে। তাই ওষুধের পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে সুন্দর আচরণও নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার (১১জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের কাজ শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানুষের জীবনের জন্য দেওয়া একটি মহান সেবা। মানুষ যখন সবচেয়ে কঠিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর পর সবচেয়ে বেশি ভরসা করে একজন চিকিৎসকের ওপর।

তিনি বলেন, জীবনে শুধু নেওয়ার নয়, দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নিজের ব্যাংকিং জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চাকরির শুরুতে তার প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতি মাসে বেতনের ১০ শতাংশ সমাজের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে উৎসাহিত করতেন। সেই শিক্ষা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন, মানুষের জন্য কিছু করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের মধ্যে মেডিকেল এথিকস ও মোরাল এথিকস আরও শক্তিশালী করতে হবে। রোগীদের ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সম্মান দিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। একজন চিকিৎসকের মানবিক আচরণ রোগীর চিকিৎসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, করোনা মহামারি, হাম পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক বন্যায় বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অসাধারণ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। ছুটি উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে বন্যার সময় গভীর রাতেও চিকিৎসকদের মাঠে কাজ করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটাই চিকিৎসকদের প্রকৃত অবদান, এটাই তাদের নৈতিকতা।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের আবেদনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৮০-৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক মাইক্রোস্কোপ সরবরাহের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা হাসপাতাল ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোকে আরও আধুনিক করা হবে। আগামী মাস থেকেই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমিয়ে সারাদেশে সমান মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা শহরের মানুষ যেমন সেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তেমনি গ্রামের মানুষও সমানভাবে সেই সেবার দাবিদার। বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একই মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, চিকিৎসকদের বিভিন্ন যৌক্তিক দাবি সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তবে সেবাদানের ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব করা যাবে না। চিকিৎসক হিসেবে সনদ অর্জনের পর থেকেই জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা, পেশাগত নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তারদের পাংচুয়ালিটি (সময়নিষ্ঠা) ও মেডিকেল এথিকস বজায় থাকলে দেশের মানুষের কাছে চিকিৎসকরা সবচেয়ে সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।