১৪ টাকায় ডিম, ২০০ টাকায় শিম: চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত
*** কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা কেজি;
*** বেশির ভাগ সবজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা
*** চড়া মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই
***তুলনামূলক স্থির মুরগি ও গরুর মাংস
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে যেন স্বস্তি মিলছে না। একের পর এক পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। খুচরা বাজারে একটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৪ টাকা। এক ডজন ডিমের দাম উঠেছে ১৬৫ টাকা। শুধু ডিম নয়, সবজির বাজারেও দেখা দিয়েছে বাড়তি দামের চাপ। বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এর সঙ্গে মাছের চড়া দামও বাড়িয়েছে ক্রেতাদের অস্বস্তি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের মতো সাধারণ সবজির দামও এখন অনেকটাই বাড়তি। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকা কেজি দরে। টমেটোর দাম কেজিতে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম প্রায় ৮০ টাকা কেজি।
সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করেছে কাঁচা মরিচ। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ টাকায়। দেশি শসার দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। সাধারণ শসা তুলনামূলক কম, ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মৌসুমের আগেই বাজারে আসা শিমের দামও ক্রেতাদের চমকে দিচ্ছে। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ এক কেজি শিম কিনতেই অনেক ক্রেতাকে দুইশ টাকার কাছাকাছি খরচ করতে হচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার কেজি ৪০ টাকা।
সবজির তুলনায় শাকের বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাল শাক ও কলমি শাকের আঁটি ১০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি ডিমের দামও সাধারণ মানুষের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা দরে। চারটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিমের দাম কমার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এক ডিম বিক্রেতা বলেন, ফার্মের মুরগির ডিম এখন হালি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দাম বাড়তি থাকায় ক্রেতাদেরও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।
চিংড়ির দাম আকারভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ টাকায়। শোল মাছের কেজি ৭০০ টাকা এবং চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু দেশি ও চাহিদাসম্পন্ন মাছ কিনতে কেজিতে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকারও বেশি।
তবে মুরগি ও গরুর মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও প্রায় আগের অবস্থায় রয়েছে কেজি ৮০০ টাকা।
এক ক্রেতা বলেন, বাজারে এখন ৮০ টাকার নিচে তেমন কোনো সবজি নেই। টমেটো, বেগুন কিংবা করলার মতো সবজি কিনতেও ১০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য চাল, মাছ, সবজি—সবকিছুর খরচ একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্যের সরবরাহ, মাছের আকার ও মান এবং জীবিত বা মৃত অবস্থার ওপর দামের পার্থক্য হতে পারে। একই ধরনের মাছ বা সবজির ক্ষেত্রেও বাজারভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম-বেশি দেখা যায়।
সব মিলিয়ে ডিম ও সবজির বাড়তি দামের সঙ্গে মাছের চড়া বাজার যোগ হয়ে রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনের বাজারে সামান্য কিছু পণ্য কিনতেও আগের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হওয়ায় সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।




















