Dhaka ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

১৯ দিনে হামের উপসর্গে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭৯২

12 / 100 SEO Score

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৫৭৯২ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামীকাল রবিবার থেকে দেশব্যাপী শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। টিকাদান কর্মসূচির বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সকল চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর সময়মত শিশুদের টিকা দেওয়া না হলে হাম নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বিগত সরকারের আমলে সময়মত টিকা দিতে না পারায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যে সকল কর্মকর্তা দায়ী তাদের কঠোর শাস্তির জন্য বর্তমান সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন সন্তানহারা পরিবারের সদস্যরা। যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের টিকা সংক্রান্ত জীবনরক্ষাকারী কোন বিষয় নিয়ে কেউ অবহেলা করার সাহস না পায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টিকা প্রদানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি শিশুও এর বাইরে থাকবে না। টিকা দেওয়ার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, জন্মের পর শিশুদের টিকা দেওয়া অত্যবশ্যকীয়। পৃথক সম্প্রসারিত টিকাপ্রদান কর্মসূচি (ইপিআই) করাই হয়েছে এজন্য। জন্মের পর সময়মত টিকা না দেওয়া হলে শিশু জটিল রোগে আক্রান্ত, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকে। টিকা কেনায় টাকা ছাড় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট যে সকল কর্মকর্তা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ও শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, সাধারণত শিশুর জন্মের পর বিসিজি টিকা দেওয়া হয়। প্রথম সপ্তাহে একডোজ। ৪ সপ্তাহ পর এক, আরো ৪ সপ্তাহ পর আরেক ডোজ দিতে হয়। ৯ মাস হলেই একডোজ এবং ১৫ মাস হলে হাম ও রোবেলার শেষ ডোজ টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। এর আগে পলিও, নিউমোনিয়া, টিটেনাস, হোপিংকফ, ডিপথেরিয়া ও হেপাটাইটিসের টিকা প্রদান করা হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে ২ জন ও কক্সবাজার জেলায় ২ জন শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ সন্দেহে ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ৯৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে হামের সর্বোচ্চ চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সবাই হামে আক্রান্ত নয়। পরীক্ষা করে যারা হামে আক্রান্ত তাদের জন্য চিকিত্সা প্রটোকল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

১৯ দিনে হামের উপসর্গে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৭৯২

Update Time : ০৬:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত গত ১৯ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৫৭৯২ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামীকাল রবিবার থেকে দেশব্যাপী শিশুদের টিকা দেওয়া শুরু হয়। টিকাদান কর্মসূচির বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সকল চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর সময়মত শিশুদের টিকা দেওয়া না হলে হাম নিউমোনিয়াসহ কয়েকটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। বিগত সরকারের আমলে সময়মত টিকা দিতে না পারায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যে সকল কর্মকর্তা দায়ী তাদের কঠোর শাস্তির জন্য বর্তমান সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন সন্তানহারা পরিবারের সদস্যরা। যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের টিকা সংক্রান্ত জীবনরক্ষাকারী কোন বিষয় নিয়ে কেউ অবহেলা করার সাহস না পায়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টিকা প্রদানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি শিশুও এর বাইরে থাকবে না। টিকা দেওয়ার বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি জানান।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, জন্মের পর শিশুদের টিকা দেওয়া অত্যবশ্যকীয়। পৃথক সম্প্রসারিত টিকাপ্রদান কর্মসূচি (ইপিআই) করাই হয়েছে এজন্য। জন্মের পর সময়মত টিকা না দেওয়া হলে শিশু জটিল রোগে আক্রান্ত, এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকে। টিকা কেনায় টাকা ছাড় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট যে সকল কর্মকর্তা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ও শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ মোয়াজ বলেন, সাধারণত শিশুর জন্মের পর বিসিজি টিকা দেওয়া হয়। প্রথম সপ্তাহে একডোজ। ৪ সপ্তাহ পর এক, আরো ৪ সপ্তাহ পর আরেক ডোজ দিতে হয়। ৯ মাস হলেই একডোজ এবং ১৫ মাস হলে হাম ও রোবেলার শেষ ডোজ টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। এর আগে পলিও, নিউমোনিয়া, টিটেনাস, হোপিংকফ, ডিপথেরিয়া ও হেপাটাইটিসের টিকা প্রদান করা হয়।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামে ২ জন ও কক্সবাজার জেলায় ২ জন শিশু মারা গেছে। হামের উপসর্গ সন্দেহে ঢাকাসহ ৮ বিভাগে ৯৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় ৪২ জনের হাম সনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে হামের সর্বোচ্চ চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও সবাই হামে আক্রান্ত নয়। পরীক্ষা করে যারা হামে আক্রান্ত তাদের জন্য চিকিত্সা প্রটোকল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।