Dhaka ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
9 / 100 SEO Score

 

ফেনীর দাগনভূঞায় বহুল আলোচিত মা-মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৫ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে পলাতক প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা দেওয়া হয়েছে আদালতে উপস্থিত আসামি নিপু কুমার দাসকেও। এ ছাড়াও অপর আসামি মো. আজাদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম জয়নাল আবেদীনের ছেলে, আজাদ মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে এবং নিপু কুমার দাস প্রভাত কুমার দাসের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আজাদ ও নিপু কুমার দাস আদালতে উপস্থিত থাকলেও সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি ১২ বছর বয়সী মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিন আসামি তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করেন। দরজা খুলতেই তারা ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম গৃহবধূর গলা চেপে ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার মা বাধা দিতে এগিয়ে এলে নিপু কুমার দাস ও আজাদ তাকে জোর করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। পরে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি বীজতলার কাছে নিয়ে নিপু কুমার দাস তাকেও ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আজাদ সহযোগিতা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনার তিন দিন পর ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দাগনভূঞা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহীম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সাইফুল ইসলাম ও নিপু কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আজাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ধর্ষণ মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : ০৩:০১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
9 / 100 SEO Score

 

ফেনীর দাগনভূঞায় বহুল আলোচিত মা-মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৫ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে পলাতক প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাজা দেওয়া হয়েছে আদালতে উপস্থিত আসামি নিপু কুমার দাসকেও। এ ছাড়াও অপর আসামি মো. আজাদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম জয়নাল আবেদীনের ছেলে, আজাদ মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে এবং নিপু কুমার দাস প্রভাত কুমার দাসের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আজাদ ও নিপু কুমার দাস আদালতে উপস্থিত থাকলেও সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি ১২ বছর বয়সী মেয়ে ও ৭ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে তিন আসামি তাদের বাড়িতে গিয়ে দরজায় ডাকাডাকি করেন। দরজা খুলতেই তারা ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, একপর্যায়ে সাইফুল ইসলাম গৃহবধূর গলা চেপে ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার মা বাধা দিতে এগিয়ে এলে নিপু কুমার দাস ও আজাদ তাকে জোর করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান। পরে বাড়ির পূর্ব পাশে একটি বীজতলার কাছে নিয়ে নিপু কুমার দাস তাকেও ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আজাদ সহযোগিতা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনার তিন দিন পর ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দাগনভূঞা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহীম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সাইফুল ইসলাম ও নিপু কুমার দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আজাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।