Dhaka ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ফের বাজবে যুদ্ধের দামামা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হয়েছে গত সোমবার (১৭ আগস্ট)। এরপর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নন।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের উচিত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ ওড়ানো। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে তার প্রশাসনের যোগাযোগ রয়েছে। তবে আইআরজিসি ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান সংঘাতে আরও কঠোর কৌশল নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার কার্যকারিতা আর নেই।

তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দেওয়ার জন্য দেশটির বাহিনী প্রস্তুত।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ওমানের ভূমিকা নিয়েও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইয়িংস্টের বরাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনায় বাধা দিলে ওমানে হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্প ওমানকে নিয়ে অশালীন ভাষায় এই হুমকি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওমান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে নিজেদের নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে দেশটি হরমুজ প্রণালি ফের চালুর বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

ট্রাম্পের ওমানকে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে তারা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাহাজ চলাচলের পথের একটি ‘মানচিত্র’ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন বিস্তারিত চূড়ান্ত করার পর যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে।

ওমানও এর আগে তেহরানের সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের পণ্য পরিবহনমূল্যের পাঁচ থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত ফি দাবি করছে তেহরান।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আইআরজিসির সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের একটি গোপন পথ রয়েছে।

তবে আইআরজিসির একজন মুখপাত্র এই দাবি নাকচ করেছেন। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও কঠোর। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানিরা ‘ভালো পোকার খেলোয়াড়’, তবে তারা মারা যাচ্ছে। যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কোনো সময়সীমা নেই এবং তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না বলেও জানান ট্রাম্প।

এর আগে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষ আবার হামলা শুরু করায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে।

 

সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন সোমবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এটাই তার প্রশাসনের ‘প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য’।

সুত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one × four =

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার মেয়াদ শেষ, ফের বাজবে যুদ্ধের দামামা?

Update Time : ০৫:৪১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মেয়াদ শেষ হয়েছে গত সোমবার (১৭ আগস্ট)। এরপর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী নন।

ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের উচিত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ ওড়ানো। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে তার প্রশাসনের যোগাযোগ রয়েছে। তবে আইআরজিসি ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।

সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ইরান সংঘাতে আরও কঠোর কৌশল নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘গুরুতর’ লঙ্ঘনের কারণে আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার কার্যকারিতা আর নেই।

তিনি আরও বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা হলে জবাব দেওয়ার জন্য দেশটির বাহিনী প্রস্তুত।

এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ওমানের ভূমিকা নিয়েও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইয়িংস্টের বরাতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনায় বাধা দিলে ওমানে হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্প ওমানকে নিয়ে অশালীন ভাষায় এই হুমকি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওমান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে নিজেদের নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে দেশটি হরমুজ প্রণালি ফের চালুর বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছে।

ট্রাম্পের ওমানকে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে তারা।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, জাহাজ চলাচলের পথের একটি ‘মানচিত্র’ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন বিস্তারিত চূড়ান্ত করার পর যৌথ বিবৃতি দেওয়া হবে।

ওমানও এর আগে তেহরানের সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি চলতি মাসের শুরুতে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপর।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এক ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের পণ্য পরিবহনমূল্যের পাঁচ থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত ফি দাবি করছে তেহরান।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আইআরজিসির সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের একটি গোপন পথ রয়েছে।

তবে আইআরজিসির একজন মুখপাত্র এই দাবি নাকচ করেছেন। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে তিনি বলেন, আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানও কঠোর। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানিরা ‘ভালো পোকার খেলোয়াড়’, তবে তারা মারা যাচ্ছে। যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তার কোনো সময়সীমা নেই এবং তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না বলেও জানান ট্রাম্প।

এর আগে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং অন্তত আংশিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই দুই পক্ষ আবার হামলা শুরু করায় সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে।

 

সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন সোমবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এটাই তার প্রশাসনের ‘প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য’।

সুত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি