Dhaka ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়ার আগে জেনে নিন ১২ তথ্য

নিউজ ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। তবে সুন্দরবনে ভ্রমণে যেতে হলে আগে থেকেই সঠিক পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞ ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। যাঁরা সুন্দরবন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই ১২ পরামর্শ—

১. খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়। তবে লঞ্চ বা জাহাজে যেতে হলে খুলনা ও মোংলা থেকে যেতে হবে।

২. সুন্দরবনের সব এলাকায় ইচ্ছেমতো প্রবেশের সুযোগ নেই। বন বিভাগের অনুমতি বা বৈধ পাস নিয়ে নির্ধারিত পথ ও পর্যটন স্পটে যেতে হয়। কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য আবার বিশেষ অনুমতিরও প্রয়োজন হয়।

৩. ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি খুলনা ও মোংলায় যাওয়া যায়। খুলনাগামী নন-এসি বাসের ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে খুলনায় যাওয়ার বেশ কয়েকটি ট্রেনও রয়েছে। মোংলাগামী নন–এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা।

৪. পর্যটকদের সুন্দরবন ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বাগেরহাটের মোংলা, খুলনার চালনা ও সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অনেক ট্রলার রয়েছে। এক দিনের সফরের জন্য মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদী হয়ে কালাবাগী ও শেখেরটেক এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকীতে ট্রলার নিয়ে যাওয়া যায়।

৫. ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে গেলে সাধারণত সব ধরনের ফি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এক দিনের জন্য নিজ উদ্যোগে গেলে প্রতিটি জায়গার জন্য প্রবেশ ফি আলাদাভাবে দিতে হয়।

৬. মোংলা থেকে খুব সকালে রওনা দিলে করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটি জায়গাই এক দিনে ঘুরে দেখা যায়। মোংলা ফেরিঘাট থেকে সারা দিনের জন্য নৌযান ভাড়া করা যায়। শুধু করমজল ঘুরতে ভাড়া লাগে এক–দুই হাজার টাকা। করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটিতেই যেতে ভাড়া লাগে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। দুপুরের খাবার সঙ্গে করে নেওয়া ভালো।

৭. খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন–সংলগ্ন কৈলাসগঞ্জ ও বাণীশান্তা ইউনিয়নে বেশ কিছু ইকোকটেজ গড়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক এখন সেখানে থেকে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সরাসরি মোংলা থেকে বা খুলনা থেকে মোংলা হয়ে কিংবা খুলনা থেকে চালনা হয়ে এসব কটেজ যাওয়া যায়।

৮. বর্তমানে খুলনা থেকে সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রায় ৬৫টি জলযান রয়েছে। একেকটি জলযানে ৬ জন থেকে শুরু করে ৭৫ জন পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়।

৯. সাধারণত ট্যুর হয় তিন দিন দুই রাতের। কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে আগে থেকেই ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হয়। উৎসব বা দীর্ঘ ছুটির সময় বুকিং বেশি থাকে। তাই কয়েক মাস আগে থেকেই বুকিং দেওয়া ভালো।

১০. খরচের দিক থেকে নন-এসি জলযানে জনপ্রতি ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং এসি জলযানে জনপ্রতি ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে।

১১. এই খরচের মধ্যে অনুমতি ফি, থাকার ব্যবস্থা, গাইড, সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার এবং দুটি স্ন্যাকস অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ জলযানে ওঠা থেকে সুন্দরবন ঘুরে ফিরে এসে নামা পর্যন্ত পুরো খরচই এর মধ্যে ধরা থাকে।

১২. সুন্দরবনে ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও বনে প্রবেশ করা যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সামগ্রী বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী নিয়ে বনে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ। বনের পশুপাখিরা বিরক্ত হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × 4 =

About Author Information

সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়ার আগে জেনে নিন ১২ তথ্য

Update Time : ০৩:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১ সেপ্টেম্বর আবারও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। তবে সুন্দরবনে ভ্রমণে যেতে হলে আগে থেকেই সঠিক পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞ ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। যাঁরা সুন্দরবন ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই ১২ পরামর্শ—

১. খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করা যায়। তবে লঞ্চ বা জাহাজে যেতে হলে খুলনা ও মোংলা থেকে যেতে হবে।

২. সুন্দরবনের সব এলাকায় ইচ্ছেমতো প্রবেশের সুযোগ নেই। বন বিভাগের অনুমতি বা বৈধ পাস নিয়ে নির্ধারিত পথ ও পর্যটন স্পটে যেতে হয়। কিছু এলাকায় প্রবেশের জন্য আবার বিশেষ অনুমতিরও প্রয়োজন হয়।

৩. ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি খুলনা ও মোংলায় যাওয়া যায়। খুলনাগামী নন-এসি বাসের ভাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ঢাকা থেকে খুলনায় যাওয়ার বেশ কয়েকটি ট্রেনও রয়েছে। মোংলাগামী নন–এসি বাসের ভাড়া ৭০০ টাকা।

৪. পর্যটকদের সুন্দরবন ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য বাগেরহাটের মোংলা, খুলনার চালনা ও সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অনেক ট্রলার রয়েছে। এক দিনের সফরের জন্য মোংলা থেকে পশুর নদ হয়ে করমজল ও হাড়বাড়িয়া, খুলনা থেকে রূপসা-শিবসা নদী হয়ে কালাবাগী ও শেখেরটেক এবং সাতক্ষীরার মুন্সিগঞ্জ থেকে কলাকাছিয়া ও দোবেকীতে ট্রলার নিয়ে যাওয়া যায়।

৫. ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে গেলে সাধারণত সব ধরনের ফি প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এক দিনের জন্য নিজ উদ্যোগে গেলে প্রতিটি জায়গার জন্য প্রবেশ ফি আলাদাভাবে দিতে হয়।

৬. মোংলা থেকে খুব সকালে রওনা দিলে করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটি জায়গাই এক দিনে ঘুরে দেখা যায়। মোংলা ফেরিঘাট থেকে সারা দিনের জন্য নৌযান ভাড়া করা যায়। শুধু করমজল ঘুরতে ভাড়া লাগে এক–দুই হাজার টাকা। করমজল ও হাড়বাড়িয়া দুটিতেই যেতে ভাড়া লাগে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। দুপুরের খাবার সঙ্গে করে নেওয়া ভালো।

৭. খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবন–সংলগ্ন কৈলাসগঞ্জ ও বাণীশান্তা ইউনিয়নে বেশ কিছু ইকোকটেজ গড়ে উঠেছে। অনেক পর্যটক এখন সেখানে থেকে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সরাসরি মোংলা থেকে বা খুলনা থেকে মোংলা হয়ে কিংবা খুলনা থেকে চালনা হয়ে এসব কটেজ যাওয়া যায়।

৮. বর্তমানে খুলনা থেকে সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রায় ৬৫টি জলযান রয়েছে। একেকটি জলযানে ৬ জন থেকে শুরু করে ৭৫ জন পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়।

৯. সাধারণত ট্যুর হয় তিন দিন দুই রাতের। কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে আগে থেকেই ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হয়। উৎসব বা দীর্ঘ ছুটির সময় বুকিং বেশি থাকে। তাই কয়েক মাস আগে থেকেই বুকিং দেওয়া ভালো।

১০. খরচের দিক থেকে নন-এসি জলযানে জনপ্রতি ৮ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং এসি জলযানে জনপ্রতি ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগে।

১১. এই খরচের মধ্যে অনুমতি ফি, থাকার ব্যবস্থা, গাইড, সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার এবং দুটি স্ন্যাকস অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ জলযানে ওঠা থেকে সুন্দরবন ঘুরে ফিরে এসে নামা পর্যন্ত পুরো খরচই এর মধ্যে ধরা থাকে।

১২. সুন্দরবনে ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও বনে প্রবেশ করা যাবে না। পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সামগ্রী বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী নিয়ে বনে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ। বনের পশুপাখিরা বিরক্ত হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না।