Dhaka ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ‘একতরফা শুল্ক’ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ Time View
12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে যে জরুরি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ শুল্কনীতি ছিল তার পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রীয় অংশ।৬–৩ ভোটে দেওয়া এই রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন। আদালত বলেন, প্রেসিডেন্ট যে আইনের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দাবি করেছেন, তা এই ধরনের পদক্ষেপকে অনুমোদন করে না।রায়ে রবার্টস লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট অসীম পরিমাণ, সময়সীমা ও পরিসরে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের অসাধারণ ক্ষমতা দাবি করছেন। এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে।’ আদালত মনে করেন, ট্রাম্প যে জরুরি আইনের ওপর নির্ভর করেছেন, তা এ ক্ষেত্রে ‘অপর্যাপ্ত’।

কোন আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক?
ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭০-এর দশকের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ)—এর অধীনে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে। এই আইন জরুরি পরিস্থিতিতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, ‘রেগুলেট ইম্পোর্টেশন’ শব্দবন্ধের মধ্যেই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত।তবে মামলাকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যুক্তি দেন, আইনে ‘ট্যারিফ’ বা ‘ডিউটি’ শব্দের উল্লেখ নেই। সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের যুক্তির সঙ্গে একমত হন।

১৩৪ বিলিয়ন ডলারের কী হবে?
রায়ে এরই মধ্যে আদায় করা প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ১ হাজারের বেশি আমদানিকারকের কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হতে পারে।ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কাভানাহ লেখেন, সরকার কীভাবে বা আদৌ এই বিপুল অর্থ ফেরত দেবে কি না—এ বিষয়ে আদালত কিছু বলেননি, যা ভবিষ্যতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মামলা
এই মামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি-সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কসহ চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।ট্রাম্প ও বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দেন, শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে। বিপরীতে, মামলাকারী ব্যবসায়ীরা বলেন, কংগ্রেসের তত্ত্বাবধান ছাড়া কার্যত কর আরোপের ক্ষমতা দাবি করা সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থি।রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন, সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের ভূমিকা সীমিত এবং সেই দায়িত্ব পালন করেই তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত সংবাদ

ট্রাম্পের ‘একতরফা শুল্ক’ অবৈধ: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়

Update Time : ০৪:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
12 / 100 SEO Score

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে বিশ্বজুড়ে যে জরুরি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ শুল্কনীতি ছিল তার পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক এজেন্ডার কেন্দ্রীয় অংশ।৬–৩ ভোটে দেওয়া এই রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লেখেন। আদালত বলেন, প্রেসিডেন্ট যে আইনের ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দাবি করেছেন, তা এই ধরনের পদক্ষেপকে অনুমোদন করে না।রায়ে রবার্টস লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট অসীম পরিমাণ, সময়সীমা ও পরিসরে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের অসাধারণ ক্ষমতা দাবি করছেন। এমন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে।’ আদালত মনে করেন, ট্রাম্প যে জরুরি আইনের ওপর নির্ভর করেছেন, তা এ ক্ষেত্রে ‘অপর্যাপ্ত’।

কোন আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক?
ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭০-এর দশকের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ)—এর অধীনে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে। এই আইন জরুরি পরিস্থিতিতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, ‘রেগুলেট ইম্পোর্টেশন’ শব্দবন্ধের মধ্যেই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত।তবে মামলাকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যুক্তি দেন, আইনে ‘ট্যারিফ’ বা ‘ডিউটি’ শব্দের উল্লেখ নেই। সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের যুক্তির সঙ্গে একমত হন।

১৩৪ বিলিয়ন ডলারের কী হবে?
রায়ে এরই মধ্যে আদায় করা প্রায় ১৩৪ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ১ হাজারের বেশি আমদানিকারকের কাছ থেকে এই অর্থ আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি নিম্ন আদালতে নিষ্পত্তি হতে পারে।ভিন্নমত পোষণকারী বিচারপতি কাভানাহ লেখেন, সরকার কীভাবে বা আদৌ এই বিপুল অর্থ ফেরত দেবে কি না—এ বিষয়ে আদালত কিছু বলেননি, যা ভবিষ্যতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মামলা
এই মামলা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি-সংশ্লিষ্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্কসহ চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।ট্রাম্প ও বিচার বিভাগ আদালতে যুক্তি দেন, শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে। বিপরীতে, মামলাকারী ব্যবসায়ীরা বলেন, কংগ্রেসের তত্ত্বাবধান ছাড়া কার্যত কর আরোপের ক্ষমতা দাবি করা সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থি।রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন, সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের ভূমিকা সীমিত এবং সেই দায়িত্ব পালন করেই তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।