Dhaka ০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বাড়িয়েও বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

দাম বাড়ানের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ কম। খুচরা বিক্রেতারা বলেছেন, মূলত ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম ছাড়ছে। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। যতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে বেশির ভাগই দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, নিউ মার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা ফরহাদ হোসেন বলেছেন, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্যবসায়ীরা বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও ব্যবসায়ীদের তেলের এই নতুন দর অনুমোদন করেছে। কিন্তু এখন বাজারে সরবরাহ নেই।

এদিকে বোতলজাত তেলের এ সংকটে খোলা তেলের দামও বাড়ছে। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।

আটা-ময়দার দাম বেড়েছে: বাজারে খোলা ও মোড়কজাত আটা এবং ময়দার দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও আটা, ময়দার মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানিয়েছে। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে তিন টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম পাঁচ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে আটার কেজি ছিল ৪৫ টাকা। বিক্রেতারা প্রতি কেজি খোলা ময়দার দাম রাখছেন ৬৫-৭০ টাকা। মাসখানেক আগে খোলা ময়দার কেজি ছিল ৫৫-৬০ টাকা।

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত (প্যাকেট) দুই কেজি ওজনের এক প্যাকেট ময়দা ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে প্রতি কেজি মোড়কজাত ময়দার দাম পড়ছে ৮০-৮৫ টাকা।

আটা-ময়দাসহ অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত শনিবার বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখতে বলেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উত্পাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে। বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিমে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের চাষের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৪০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কই ২৫০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে বিভিন্ন সবজি আগের চড়া দামে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × two =

About Author Information

দাম বাড়িয়েও বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি

Update Time : ০৫:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দাম বাড়ানের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ কম। খুচরা বিক্রেতারা বলেছেন, মূলত ভোজ্য তেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম ছাড়ছে। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তেল পাচ্ছেন না তারা। যতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে বেশির ভাগই দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, নিউ মার্কেট ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা ফরহাদ হোসেন বলেছেন, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্যবসায়ীরা বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও ব্যবসায়ীদের তেলের এই নতুন দর অনুমোদন করেছে। কিন্তু এখন বাজারে সরবরাহ নেই।

এদিকে বোতলজাত তেলের এ সংকটে খোলা তেলের দামও বাড়ছে। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।

আটা-ময়দার দাম বেড়েছে: বাজারে খোলা ও মোড়কজাত আটা এবং ময়দার দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও আটা, ময়দার মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানিয়েছে। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা আটার দাম কেজিতে তিন টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক মাসে প্রতি কেজি খোলা আটার দাম পাঁচ টাকা এবং খোলা ও মোড়কজাত ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগে আটার কেজি ছিল ৪৫ টাকা। বিক্রেতারা প্রতি কেজি খোলা ময়দার দাম রাখছেন ৬৫-৭০ টাকা। মাসখানেক আগে খোলা ময়দার কেজি ছিল ৫৫-৬০ টাকা।

বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কজাত (প্যাকেট) দুই কেজি ওজনের এক প্যাকেট ময়দা ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ হিসেবে প্রতি কেজি মোড়কজাত ময়দার দাম পড়ছে ৮০-৮৫ টাকা।

আটা-ময়দাসহ অন্যান্য কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত শনিবার বিভিন্ন বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখতে বলেন। বৈঠকে বেকারি পণ্যের উত্পাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়।

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ডিমের দাম বেড়েছে। বাজারভেদে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিমে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের চাষের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৪০ টাকা, ট্যাংরা ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা, পাঙাশ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কই ২৫০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজারে বিভিন্ন সবজি আগের চড়া দামে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা।