Dhaka ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বিলটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে এ আইন।

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিল বা মূল বক্তব্য হলো— ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত তেল ক্রয় করছে, তারা আসলে এ যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাশিয়াকে শক্তিশালী করছে। এ কারণে রাশিয়ার কাছ থেকে যেসব দেশ নিয়মিত বিপুল পরিমাণে তেল ক্রয় করছে, তাদের মধ্যে শীর্ষ আমদানিকারক ৫টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবে ওয়াশিংটন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রুশ তেলের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও বহু দেশ রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব দেশের মধ্যে শীর্ষে আছে ১০টি চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান।

এখানে লক্ষ্যনীয় হলো, রাশিয়া নিষেধজ্ঞা আইনে ‘রুশ তেলের শীর্ষ আমদানিকারক ৫ দেশ’— উল্লেখ থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম আইনে উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, রাশিয়ার তেলে আমদানি করার অভিযোগে কোন কোন দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যাবে— তা নির্ধারণ করার স্বাধীনতা প্রশাসনের হাতে থেকে যাচ্ছে।

ফলে, আইনটি কার্যকর হলেই যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভারত ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে পড়তে যাচ্ছে— তা এখনই নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। কারণ, যদিও ভারত রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা, কিন্তু ওয়াশিংটন চাইলে ভারতকে ‘রাশিয়ার তেলের শীর্ষ ৫ ক্রেতা-দেশ’-এর তালিকায় না-ও রাখতে পারে। আইনে সেই সুযোগ রয়েছে।

তবে তারপরও এ আইনে ট্রাম্পের ট্রাম্পের স্বাক্ষর ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ আইনটির আওতায় ওয়াশিংটন চাইলে যে কোনো সময় ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক জারি করতে পারবে।

‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল প্রস্তাবক বা প্রণেতা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক।

গত ৭ আগস্ট ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলটি পাস হয় সিনেটে। তার মাত্র ৪ দিন পর ওয়াশিংটনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান লিন্ডসে গ্রাহাম।

তারপর ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয় বিলটি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষরের আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, “ভারত এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও ফোরামে বহুবার বলেছে এবং আজ আবারও বলছে যে নয়াদিল্লি ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আপস করতে প্রস্তুত নয়। আমরা বরাবর সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে ভারত সবসময় দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভারত মনে করে, নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে তা শুধু ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × five =

About Author Information

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

Update Time : ০৬:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বিলটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে এ আইন।

১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিল বা মূল বক্তব্য হলো— ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত তেল ক্রয় করছে, তারা আসলে এ যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাশিয়াকে শক্তিশালী করছে। এ কারণে রাশিয়ার কাছ থেকে যেসব দেশ নিয়মিত বিপুল পরিমাণে তেল ক্রয় করছে, তাদের মধ্যে শীর্ষ আমদানিকারক ৫টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারবে ওয়াশিংটন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রুশ তেলের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও বহু দেশ রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব দেশের মধ্যে শীর্ষে আছে ১০টি চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান।

এখানে লক্ষ্যনীয় হলো, রাশিয়া নিষেধজ্ঞা আইনে ‘রুশ তেলের শীর্ষ আমদানিকারক ৫ দেশ’— উল্লেখ থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম আইনে উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, রাশিয়ার তেলে আমদানি করার অভিযোগে কোন কোন দেশের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা যাবে— তা নির্ধারণ করার স্বাধীনতা প্রশাসনের হাতে থেকে যাচ্ছে।

ফলে, আইনটি কার্যকর হলেই যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভারত ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্কের মুখে পড়তে যাচ্ছে— তা এখনই নিশ্চিত করে বলার সুযোগ নেই। কারণ, যদিও ভারত রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা, কিন্তু ওয়াশিংটন চাইলে ভারতকে ‘রাশিয়ার তেলের শীর্ষ ৫ ক্রেতা-দেশ’-এর তালিকায় না-ও রাখতে পারে। আইনে সেই সুযোগ রয়েছে।

তবে তারপরও এ আইনে ট্রাম্পের ট্রাম্পের স্বাক্ষর ভারতের জন্য উদ্বেগজনক। কারণ আইনটির আওতায় ওয়াশিংটন চাইলে যে কোনো সময় ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক জারি করতে পারবে।

‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলের মূল প্রস্তাবক বা প্রণেতা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক।

গত ৭ আগস্ট ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলটি পাস হয় সিনেটে। তার মাত্র ৪ দিন পর ওয়াশিংটনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান লিন্ডসে গ্রাহাম।

তারপর ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হয় বিলটি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষরের আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, “ভারত এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও ফোরামে বহুবার বলেছে এবং আজ আবারও বলছে যে নয়াদিল্লি ভারতের ১৪০ কোটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আপস করতে প্রস্তুত নয়। আমরা বরাবর সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে ভারত সবসময় দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ভারত মনে করে, নতুন আইন বাস্তবায়ন হলে তা শুধু ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে