Dhaka ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মাথায় প্রভাবশালী নেতার হাত থাকায়’ আগেও অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তুহিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকপুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে এক যুবকের মোটরসাইকেল কৌশলে আত্মসাতের পুরোনো অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের ওই যুবকের দাবি, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় তৎকালীন সময়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ নিয়মিত মামলা না নিয়ে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। অতীতের সেই অপরাধে কোনো শাস্তি না পাওয়ায় তুহিন পরবর্তীতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তুহিনের আটকের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বের সেই অভিযোগপত্রের অনুলিপি পোস্ট করেন সোহাগ। ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তুহিন একই কৌশলে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের চাপের কথা উল্লেখ করে মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং কেবল একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে। ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহাগ লেখেন, ‘ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলেই অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।’

থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন সালমানপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছিল। সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে তুহিন হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পূর্বপরিচয়ের সুবাদে ২৬ এপ্রিল রাতে তুহিন গাড়িটি কিছুক্ষণের জন্য চালানোর কথা বলে নিয়ে যান। এরপর সোহাগকে জানানো হয় গাড়িটি আর তার কাছে নেই এবং পরবর্তীতে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, জিডির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রাথমিক তদন্তের ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি খতিয়ে দেখা সম্ভব না হলেও তদন্তের স্বার্থে অতীতের এই অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পেয়ে শনিবার বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

11 + seventeen =

About Author Information

‘মাথায় প্রভাবশালী নেতার হাত থাকায়’ আগেও অপরাধ করে পার পেয়ে যায় তুহিন

Update Time : ০৭:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকপুত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে আটক মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে এক যুবকের মোটরসাইকেল কৌশলে আত্মসাতের পুরোনো অভিযোগ সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী আসাদুল্লাহ সোহাগ নামের ওই যুবকের দাবি, এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় তৎকালীন সময়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ নিয়মিত মামলা না নিয়ে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল। অতীতের সেই অপরাধে কোনো শাস্তি না পাওয়ায় তুহিন পরবর্তীতে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে তুহিনের আটকের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বের সেই অভিযোগপত্রের অনুলিপি পোস্ট করেন সোহাগ। ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তুহিন একই কৌশলে ডেকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলটি আত্মসাৎ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের চাপের কথা উল্লেখ করে মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং কেবল একটি জিডি লিপিবদ্ধ করে। ক্ষোভ প্রকাশ করে সোহাগ লেখেন, ‘ছোট অপরাধ পার পেয়ে গেলেই অপরাধীরা পরবর্তীতে বড় অপরাধ করার সাহস পায়।’

থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন সালমানপুর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছিল। সোহাগের মা মরিয়ম আক্তার বাদী হয়ে তুহিন হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় একটি সুজুকি মনোটন মোটরসাইকেল কেনেন সোহাগ। পূর্বপরিচয়ের সুবাদে ২৬ এপ্রিল রাতে তুহিন গাড়িটি কিছুক্ষণের জন্য চালানোর কথা বলে নিয়ে যান। এরপর সোহাগকে জানানো হয় গাড়িটি আর তার কাছে নেই এবং পরবর্তীতে তা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, জিডির বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অপ্রতিম হত্যা মামলার প্রাথমিক তদন্তের ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি খতিয়ে দেখা সম্ভব না হলেও তদন্তের স্বার্থে অতীতের এই অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হবে।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ির বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও কুবি শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিম। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকসংলগ্ন সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখতে পেয়ে শনিবার বিকেলে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাড়ি থেকে খোয়া যাওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয় এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনাস ও ফাহিম নামের আরও দুই কিশোরকে হেফাজতে নেওয়া হয়।