Dhaka ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলের দাম বাড়তেই বাড়ছে সবজির দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর সবজির বাজারে। ডিজেল, অক্টেন ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সবজির দামও বাড়াতে হয়েছে। এতে বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মান্ডা-মুগদা সবজি বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। আগে এর দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে শিমের দাম।

এ ছাড়া, টমেটো ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামে ছিল প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। শসা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পটলের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ঝিঙা ৬০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। কুমড়ার ফালি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামেই রয়েছে। মাঝারি চালকুমড়ার বর্তমান দাম ৬০ টাকা প্রতিপিস।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে সবজি আনতে ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন পরিবহণের ওপর নির্ভর করতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এসব যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে। ফলে আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাড়তি পরিবহণ ব্যয় যুক্ত হচ্ছে।

ফজলুল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর সবজি আনতে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। মোকামে মালের দাম বাড়তি। তাই বাধ্য হয়ে কিছু সবজির দাম বাড়াতে হয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী ইলিয়াস বলেন, সবজির দাম শুধু আমাদের কারণে বাড়ছে না। কৃষকের কাছ থেকে কেনা, পরিবহণ, শ্রমিকের খরচসহ সব মিলিয়ে বাজারে পণ্য তুলতে খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা দামে পড়ছে। পাইকারি কিনতে তো বেশি দাম দিতেই হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা ওলিয়ার রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সবজির দামও বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। আগে যে সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।

ইদ্রিস নামের আরেক ক্রেতা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়তে পারে। কিন্তু এর প্রভাব যেন সব পণ্যের দামে একসঙ্গে না পড়ে, সেটি সংশ্লিষ্টদের দেখা দরকার। সাধারণ মানুষের আয় তো একইভাবে বাড়ছে না।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

13 − 10 =

About Author Information

তেলের দাম বাড়তেই বাড়ছে সবজির দাম

Update Time : ০৭:০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর সবজির বাজারে। ডিজেল, অক্টেন ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সবজির দামও বাড়াতে হয়েছে। এতে বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মান্ডা-মুগদা সবজি বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। আগে এর দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে শিমের দাম।

এ ছাড়া, টমেটো ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামে ছিল প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। শসা ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং মূলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পটলের দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, ধুন্দল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং ঝিঙা ৬০ থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজি হয়েছে। কুমড়ার ফালি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের দামেই রয়েছে। মাঝারি চালকুমড়ার বর্তমান দাম ৬০ টাকা প্রতিপিস।

সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে সবজি আনতে ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন পরিবহণের ওপর নির্ভর করতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এসব যানবাহনের ভাড়া বেড়েছে। ফলে আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাড়তি পরিবহণ ব্যয় যুক্ত হচ্ছে।

ফজলুল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার পর সবজি আনতে পরিবহণ খরচ বেড়েছে। মোকামে মালের দাম বাড়তি। তাই বাধ্য হয়ে কিছু সবজির দাম বাড়াতে হয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী ইলিয়াস বলেন, সবজির দাম শুধু আমাদের কারণে বাড়ছে না। কৃষকের কাছ থেকে কেনা, পরিবহণ, শ্রমিকের খরচসহ সব মিলিয়ে বাজারে পণ্য তুলতে খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা দামে পড়ছে। পাইকারি কিনতে তো বেশি দাম দিতেই হচ্ছে।

অন্যদিকে বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা ওলিয়ার রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সবজির দামও বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। আগে যে সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।

ইদ্রিস নামের আরেক ক্রেতা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়তে পারে। কিন্তু এর প্রভাব যেন সব পণ্যের দামে একসঙ্গে না পড়ে, সেটি সংশ্লিষ্টদের দেখা দরকার। সাধারণ মানুষের আয় তো একইভাবে বাড়ছে না।