Dhaka ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

5. টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের শঙ্কা, অনিশ্চয়তায় ৬ কোটি বাটন ফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক
9 / 100 SEO Score

 

মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে ধাপে ধাপে বিদায় নিতে যাচ্ছে টু-জি নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের পর থেকে দেশে প্রচলিত টু-জি বাটন ফোন আর কাজ করবে না। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা প্রায় ৬ কোটি টু-জি হ্যান্ডসেট পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামের যে মানুষটি বাটন ফোন ব্যবহার করেন তারা কীভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবেন? স্মার্ট ফোনের দাম কি কমবে? কতটা কমবে? মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে কি স্মার্ট ফোনের দাম আনা সম্ভব?

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে মোবাইল অপারেটররা খুশি হলেও দেশীয় হ্যান্ডসেট প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অবৈধ সেটে কি আবারও বাজার সয়লাব হয়ে যাবে? এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে মোবাইল অপারেটরদের পরিচালন ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেকটা কমে আসবে। পাশাপাশি সস্তা ফোনের বাজার চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আধুনিক ডিজিটাল সংযোগ ও ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে বিটিআরসি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর থেকে নতুন কোনো টু-জি বাটন ফোনের মডেলের অনুমোদন দেবে না বিটিআরসি। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর থেকে বাংলাদেশে টু-জি মোবাইল ফোন সেট উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। ২০২৭ সালের ৩০ জুনের পর থেকে বাজারে টু-জি ফিচার ফোন বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে ।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভালো। কিন্তু একবারে যেভাবে বন্ধ করতে চাচ্ছে সেটাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এনইআইআরের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে সেটা হতে পারে। আমরা বলছি, ২০২৭ সালের মার্চের পর আপনি টুজি ফোন উৎপাদন বন্ধ করে দিলেন। এরপর যে দুই বছর থাকবে, সেখানে তো অবৈধ ফোন দিয়ে বাজার ভরে যাবে। ফলে বিটিআরসি যদি টার্গেট করে ২০২৭ সালের মধ্যে কতটুকু তারা অর্জন করবে, ২০২৮ সালের মধ্যে কতটুকু অর্জন করবে সেটা যদি ঠিকমতো চলে তাহলে তো বন্ধ করলে ক্ষতি নেই। মোবাইল অপারেটরদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

জানা গেছে, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকার ইতিমধ্যে মাত্র ৫ হাজার টাকায় সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদকরা বলছেন, টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে এই স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ ফোর-জি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা সম্ভব? গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মতো টেলিকম অপারেটরদের ডেটা নেটওয়ার্কের মান কি উন্নত হবে? সেগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশই টু-জি ফিচার ফোন, যা ৯৫০ টাকায় পাওয়া যায়। বিপরীতে সাশ্রয়ী ফোর-জি স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। টু-জি বন্ধ হলে দেশের নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেছেন, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট পরামর্শসহ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাবে বিটিআরসি। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যে দাবি করছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বাটন ফোনের লাইফটাইম আড়াই বছর। ফলে আড়াই বছর আগেই এটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে অনেকের হাতেই ২০২৯ সালের পরও বাটন ফোন থাকবে, সেগুলো তারা কী করবেন? বিটিআরসি সবদিক বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, টু-জি থেকে ফোর-জি হলে আমরা স্পেকট্রাম এফিসিয়েন্সি অনেক বাড়াতে পারব। আর রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, যত তাড়াতাড়ি টু-জি থেকে ফোর-জি করতে পারব, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। নেটওয়ার্কটা আমরা মূলত ডেটা নেটওয়ার্কের জন্য সাজিয়েছি। ভয়েস নেটওয়ার্ক এখন ঐচ্ছিক পর্যায়ে চলে এসেছে।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

five × 5 =

About Author Information

5. টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের শঙ্কা, অনিশ্চয়তায় ৬ কোটি বাটন ফোন

Update Time : ০৭:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
9 / 100 SEO Score

 

মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে ধাপে ধাপে বিদায় নিতে যাচ্ছে টু-জি নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের পর থেকে দেশে প্রচলিত টু-জি বাটন ফোন আর কাজ করবে না। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা প্রায় ৬ কোটি টু-জি হ্যান্ডসেট পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামের যে মানুষটি বাটন ফোন ব্যবহার করেন তারা কীভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবেন? স্মার্ট ফোনের দাম কি কমবে? কতটা কমবে? মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে কি স্মার্ট ফোনের দাম আনা সম্ভব?

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে মোবাইল অপারেটররা খুশি হলেও দেশীয় হ্যান্ডসেট প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অবৈধ সেটে কি আবারও বাজার সয়লাব হয়ে যাবে? এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে মোবাইল অপারেটরদের পরিচালন ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেকটা কমে আসবে। পাশাপাশি সস্তা ফোনের বাজার চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আধুনিক ডিজিটাল সংযোগ ও ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে বিটিআরসি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর থেকে নতুন কোনো টু-জি বাটন ফোনের মডেলের অনুমোদন দেবে না বিটিআরসি। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর থেকে বাংলাদেশে টু-জি মোবাইল ফোন সেট উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। ২০২৭ সালের ৩০ জুনের পর থেকে বাজারে টু-জি ফিচার ফোন বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে ।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভালো। কিন্তু একবারে যেভাবে বন্ধ করতে চাচ্ছে সেটাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এনইআইআরের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে সেটা হতে পারে। আমরা বলছি, ২০২৭ সালের মার্চের পর আপনি টুজি ফোন উৎপাদন বন্ধ করে দিলেন। এরপর যে দুই বছর থাকবে, সেখানে তো অবৈধ ফোন দিয়ে বাজার ভরে যাবে। ফলে বিটিআরসি যদি টার্গেট করে ২০২৭ সালের মধ্যে কতটুকু তারা অর্জন করবে, ২০২৮ সালের মধ্যে কতটুকু অর্জন করবে সেটা যদি ঠিকমতো চলে তাহলে তো বন্ধ করলে ক্ষতি নেই। মোবাইল অপারেটরদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

জানা গেছে, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকার ইতিমধ্যে মাত্র ৫ হাজার টাকায় সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদকরা বলছেন, টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে এই স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ ফোর-জি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা সম্ভব? গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মতো টেলিকম অপারেটরদের ডেটা নেটওয়ার্কের মান কি উন্নত হবে? সেগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশই টু-জি ফিচার ফোন, যা ৯৫০ টাকায় পাওয়া যায়। বিপরীতে সাশ্রয়ী ফোর-জি স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। টু-জি বন্ধ হলে দেশের নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেছেন, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট পরামর্শসহ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাবে বিটিআরসি। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যে দাবি করছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বাটন ফোনের লাইফটাইম আড়াই বছর। ফলে আড়াই বছর আগেই এটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে অনেকের হাতেই ২০২৯ সালের পরও বাটন ফোন থাকবে, সেগুলো তারা কী করবেন? বিটিআরসি সবদিক বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, টু-জি থেকে ফোর-জি হলে আমরা স্পেকট্রাম এফিসিয়েন্সি অনেক বাড়াতে পারব। আর রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, যত তাড়াতাড়ি টু-জি থেকে ফোর-জি করতে পারব, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। নেটওয়ার্কটা আমরা মূলত ডেটা নেটওয়ার্কের জন্য সাজিয়েছি। ভয়েস নেটওয়ার্ক এখন ঐচ্ছিক পর্যায়ে চলে এসেছে।