Dhaka ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে চারজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-ড্রোন-জিহাদি বই উদ্ধার

12 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জিহাদি বই, ড্রোনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য ও সামরিক পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তারা বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)। ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই এবং তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এবং আবু বক্করের বাড়ি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।

গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদ-সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাসা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিমকে এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মিয়ানমারকেন্দ্রিক রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা রাজধানীতে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও গুপ্ত হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ লক্ষ্যে অস্ত্র, গুলি, ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন তারা। উদ্ধার করা সামরিক পোশাকগুলো আরসার বলে পুলিশের ধারণা। তবে ডিবির আরেকটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’ উগ্রবাদীরা হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটি বলব না, আমি শুধু বলব যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যারা জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজধানীতে জঙ্গি সন্দেহে চারজন গ্রেপ্তার, অস্ত্র-ড্রোন-জিহাদি বই উদ্ধার

Update Time : ০৬:২৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, জিহাদি বই, ড্রোনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য ও সামরিক পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, তারা বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার পরিকল্পনা করছিলেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) ও আবু বক্কর (২৫)। ইমরান ও মোস্তাকিম আপন ভাই এবং তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। রিপনের বাড়ি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় এবং আবু বক্করের বাড়ি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের রূপনগর এলাকায়।

গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের তারা মসজিদ-সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাসা থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিমকে এবং সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকা থেকে রিপন ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা মিয়ানমারকেন্দ্রিক রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা রাজধানীতে সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও গুপ্ত হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ লক্ষ্যে অস্ত্র, গুলি, ড্রোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করেন তারা। উদ্ধার করা সামরিক পোশাকগুলো আরসার বলে পুলিশের ধারণা। তবে ডিবির আরেকটি সূত্র জানায়, পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কামরাঙ্গীরচর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিকেলে ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’ উগ্রবাদীরা হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মাথাচাড়া দিচ্ছে এমনটি বলব না, আমি শুধু বলব যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে যারা জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’