Dhaka ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৪ টাকায় ডিম, ২০০ টাকায় শিম: চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সিফাতের গ্রেফতার প্রসঙ্গে, ক্ষমতাসীন কাউকে গালি দিলে সেটা অপরাধ: জারা রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন পুলিশের অভিযানে হামলা, গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালাল ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ বগা নেপালে নিখোঁজ ৫ হাজার ৮৩: বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৮৭ টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে আবারও ক্যাম্পেইন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিন পাইলট নিহত হাসপাতালের বাথরুম নিজেই পরিষ্কার করতে চাইলেন কৃষিমন্ত্রী সিগন্যালে ত্রুটি থাকায় তিন ঘণ্টায় ১৮ ট্রেন বিলম্বিত আটলান্টিক মহাসাগরে প্রাণ গেল ৮০ জনেরও বেশি অভিবাসীর

ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে মাংস-মাছ-সবজির বাড়তি দাম

12 / 100 SEO Score

 

বৃষ্টি ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাংস, মাছ ও সবজির দাম বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক সস্তা মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের কেজি ২২০ টাকা এবং গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। এছাড়া সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখা গেছে, যেখানে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

আজ (শুক্রবার) দক্ষিণ মুগদা এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ বিক্রেতা ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না। অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি কেজিতে ৩৮০ টাকা রাখা হচ্ছে।

মুগদা ছোট বাজারের মাংস বিতানের মোহাম্মদ হানিফ জানান, তেলের দাম বাড়ছে। ভাড়া আগের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম আর কমবে না। সামনে কোরবানির ঈদ। এখন থেকে ব্যাপারীরা কোরবানি ধরেই গরুর দাম ঠিক করছে।

মুরগির দোকানে ব্রয়লারের দাম শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাদিজা নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, “কয়দিন আগে ১৮০ টাকা করে কিনছি। এখন কয় ২০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়লে গরিব বাঁচবে কেমনে? শোনেন না, মাইকে শ্রমিকদের কথা কয়। কিন্তু শ্রমিকরা যে কেমনে চলে কেউ কইতে পারবে না।”

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। সব ধরনের মাছ সপ্তাহ ব্যবধানে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরিবের মাছ খ্যাত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। হাফ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০, পাবদা ৩৮০, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০, কাতল ৪০০, টেংরা ৮৫০, গলদা চিংড়ি ছোট ও বড় যথাক্রমে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং কোনো কোনো সবজিতে সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, টমেটো ৬০, করলা ৬০ থেকে ৬৫, পটল ৬০, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৭০, গাজর ৮০, ঢেঁড়স ৬০, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৭০, শসা ১০০-১১০, বরবটি ৮০, কাঁকরোল ১২০, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

সবজি বিক্রেতা হামিদ বলেন, “গত কয়দিন ধরে দেশের সব জায়গায় বৃষ্টি। অনেক জায়গায় বৃষ্টির কারণে সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। যার জন্য আগে যে পরিমাণ সবজি ঢাকায় আসত তার তুলনায় কম আসছে। আর তেলের দাম বাড়ছে। ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে।”

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

six + six =

About Author Information

ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে মাংস-মাছ-সবজির বাড়তি দাম

Update Time : ১০:১৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

বৃষ্টি ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাংস, মাছ ও সবজির দাম বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক সস্তা মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙাশের কেজি ২২০ টাকা এবং গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। এছাড়া সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম দেখা গেছে, যেখানে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

আজ (শুক্রবার) দক্ষিণ মুগদা এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ বিক্রেতা ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না। অন্যদিকে, বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি কেজিতে ৩৮০ টাকা রাখা হচ্ছে।

মুগদা ছোট বাজারের মাংস বিতানের মোহাম্মদ হানিফ জানান, তেলের দাম বাড়ছে। ভাড়া আগের চেয়ে বেশি দিতে হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম আর কমবে না। সামনে কোরবানির ঈদ। এখন থেকে ব্যাপারীরা কোরবানি ধরেই গরুর দাম ঠিক করছে।

মুরগির দোকানে ব্রয়লারের দাম শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন খাদিজা নামের এক ক্রেতা। তিনি বলেন, “কয়দিন আগে ১৮০ টাকা করে কিনছি। এখন কয় ২০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়লে গরিব বাঁচবে কেমনে? শোনেন না, মাইকে শ্রমিকদের কথা কয়। কিন্তু শ্রমিকরা যে কেমনে চলে কেউ কইতে পারবে না।”

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। সব ধরনের মাছ সপ্তাহ ব্যবধানে ১০-২০ টাকা বেড়ে গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরিবের মাছ খ্যাত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকায়। হাফ কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০, পাবদা ৩৮০, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০, কাতল ৪০০, টেংরা ৮৫০, গলদা চিংড়ি ছোট ও বড় যথাক্রমে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি তেলের দাম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। বাজারে ৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বরং কোনো কোনো সবজিতে সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, টমেটো ৬০, করলা ৬০ থেকে ৬৫, পটল ৬০, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৭০, গাজর ৮০, ঢেঁড়স ৬০, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৭০, শসা ১০০-১১০, বরবটি ৮০, কাঁকরোল ১২০, বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টির কারণে সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

সবজি বিক্রেতা হামিদ বলেন, “গত কয়দিন ধরে দেশের সব জায়গায় বৃষ্টি। অনেক জায়গায় বৃষ্টির কারণে সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। যার জন্য আগে যে পরিমাণ সবজি ঢাকায় আসত তার তুলনায় কম আসছে। আর তেলের দাম বাড়ছে। ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে।”