Dhaka ০৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এম জুবায়দুর রহমান।রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তিনি পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়।

অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে দেশের বাইরে যান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের এই ছুটি অনুমোদিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আজ রোববার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়েছিল। ব্যাংকের গ্রাহক ও কিছু কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ের নিচে আন্দোলন শুরু করেন। তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে এম জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। ছুটিতে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানও পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সভা বাতিল হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এম জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুক খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের সরিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি।

ব্যাংকের শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে (মার্চ ২০২৬)। অন্যদিকে ব্যাংকটির প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

Update Time : ০৫:৪৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এম জুবায়দুর রহমান।রোববার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তিনি পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়।

অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে দেশের বাইরে যান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের এই ছুটি অনুমোদিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, আজ রোববার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়েছিল। ব্যাংকের গ্রাহক ও কিছু কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ের নিচে আন্দোলন শুরু করেন। তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগ না করার আহ্বান জানান এবং একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে এম জুবায়দুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। ছুটিতে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানও পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সভা বাতিল হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এম জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুক খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের সরিয়ে স্বতন্ত্র পরিচালকদের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হার ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি।

ব্যাংকের শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে এসেছে (মার্চ ২০২৬)। অন্যদিকে ব্যাংকটির প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।