ইউরোপযাত্রায় নিখোঁজ ১৪৩ শরণার্থী
উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার পথে মৌরিতানিয়ার উপকূলে ভয়াবহ নৌ দুর্ঘটনায় ১৪৩ শরণার্থী ও অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (২২ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকালে মৌরিতানিয়ার উপকূলে একটি নৌকা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নৌকাটির ১৪৩ জন অভিবাসীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে মৌরিতানিয়ার উপকূলে তিনটি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় আটকে পড়া অন্যান্য নৌকা থেকে ৩৮৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, নৌকাটি গাম্বিয়ার বাফুলোতো থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ২৫ দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর ১৮ জুলাই নুয়াদিবু বন্দরে পৌঁছালে, নৌকাটি থেকে কয়েকটি মরদেহ এবং ৩৮ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ম্যাট সল্টমার্শ বলেন, ‘ওই নৌযানটিতে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ২ জন শিশুও ছিল। তারা যাত্রাপথে তাদের পরিবারের সবাইকে হারিয়েছে। বর্তমানে ওই ২ শিশুও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া, গত ১৪ জুলাই মৌরিতানিয়ায় নোঙর করা অন্য একটি নৌকায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।’
ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, ‘মৃত ব্যক্তিরা সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা ছিলেন।’
তবে তারা কীভাবে মারা গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মৌরিতানিয়ার কোস্টগার্ড নিখোঁজের সংখ্যা ১২২ জন বলে জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, গাম্বিয়া থেকে ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরুর পর নৌকাটির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়।
ইউএনএইচসিআর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথটিকে ‘বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী’ বলে অভিহিত করেছে। এর কারণ হিসেবে দীর্ঘ সমুদ্রপথ, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এবং সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী নৌযানের কথা উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি এ পথ পাড়ি দেওয়ার বিকল্প হিসেবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, আটলান্টিক রুটের একটি প্রধান কেন্দ্র হলো মৌরিতানিয়া। এ অঞ্চল থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এক কঠোর অভিযানের ফলে এ পথে যাত্রার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মৌরিতানিয়ার কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা



















