Dhaka ০৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের পর কিউবা হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য

12 / 100 SEO Score

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান ও ভেনিজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর এবার কিউবা হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের ব্যবসায়িক সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প ভেনিজুয়েলা ও ইরানে মার্কিন সামরিক শক্তির ব্যবহারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এই বিশাল সামরিক বাহিনী গঠন করেছি এবং বলেছিলাম এটি কখনোই ব্যবহার করতে হবে না, কিন্তু মাঝেমধ্যে এর প্রয়োজন পড়ে; আর বলে রাখি, এরপর কিউবাই হতে যাচ্ছে পরবর্তী লক্ষ্য।’ তবে বক্তব্যের পর মুহূর্তেই তিনি অনেকটা বিদ্রূপের ছলে সাংবাদিকদের এই মন্তব্যটি এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন কিউবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে কিউবাও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করেছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও রবিবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন’ মোকাবিলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে তা দেখার পর আমরা যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকি তবে তা হবে বোকামি; তাই আমাদের সামরিক বাহিনী সবসময়ই প্রস্তুত এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রস্তুতি আরও বাড়ানো হয়েছে।’ কসিও আরও প্রশ্ন তোলেন যে, কিউবার মতো একটি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন সরকার কেন তাদের দেশকে বাধ্য করবে, যেখানে এই ধরনের আগ্রাসনের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

এদিকে কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিউবার বর্তমান নেতৃত্ব দেশটির দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা জ্বালানি সংকট সমাধানে সম্পূর্ণ অক্ষম এবং এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।

রুবিওর মতে, কিউবার অর্থনীতি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে এর সংস্কার সম্ভব নয়, তাই সেখানে আমূল পরিবর্তন জরুরি। উল্লেখ্য যে, গত ৬৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বজায় থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল কথার কথা নাও হতে পারে, কারণ এর আগে তিনি ভেনিজুয়েলা ও ইরানের ক্ষেত্রেও অনুরুপ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।

কিউবার বর্তমান জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ বা কঠোরতর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে। ল্যাটিন আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের এই ‘পরবর্তী লক্ষ্য’ নির্ধারণের নীতি মধ্যপ্রাচ্যের পর ক্যারিবীয় অঞ্চলেও এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। আপাতত কিউবা সরকার তাদের জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানের পর কিউবা হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য

Update Time : ০৫:০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
12 / 100 SEO Score

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান ও ভেনিজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর এবার কিউবা হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের ব্যবসায়িক সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প ভেনিজুয়েলা ও ইরানে মার্কিন সামরিক শক্তির ব্যবহারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এই বিশাল সামরিক বাহিনী গঠন করেছি এবং বলেছিলাম এটি কখনোই ব্যবহার করতে হবে না, কিন্তু মাঝেমধ্যে এর প্রয়োজন পড়ে; আর বলে রাখি, এরপর কিউবাই হতে যাচ্ছে পরবর্তী লক্ষ্য।’ তবে বক্তব্যের পর মুহূর্তেই তিনি অনেকটা বিদ্রূপের ছলে সাংবাদিকদের এই মন্তব্যটি এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এল যখন কিউবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে কিউবাও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে শুরু করেছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও রবিবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন’ মোকাবিলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে তা দেখার পর আমরা যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকি তবে তা হবে বোকামি; তাই আমাদের সামরিক বাহিনী সবসময়ই প্রস্তুত এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রস্তুতি আরও বাড়ানো হয়েছে।’ কসিও আরও প্রশ্ন তোলেন যে, কিউবার মতো একটি প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মার্কিন সরকার কেন তাদের দেশকে বাধ্য করবে, যেখানে এই ধরনের আগ্রাসনের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

এদিকে কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কিউবার বর্তমান নেতৃত্ব দেশটির দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা জ্বালানি সংকট সমাধানে সম্পূর্ণ অক্ষম এবং এই পরিস্থিতি উত্তরণের জন্য দেশটিতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন।

রুবিওর মতে, কিউবার অর্থনীতি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে এর সংস্কার সম্ভব নয়, তাই সেখানে আমূল পরিবর্তন জরুরি। উল্লেখ্য যে, গত ৬৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে বৈরী সম্পর্ক বজায় থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই চাপ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল কথার কথা নাও হতে পারে, কারণ এর আগে তিনি ভেনিজুয়েলা ও ইরানের ক্ষেত্রেও অনুরুপ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।

কিউবার বর্তমান জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ বা কঠোরতর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে। ল্যাটিন আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের এই ‘পরবর্তী লক্ষ্য’ নির্ধারণের নীতি মধ্যপ্রাচ্যের পর ক্যারিবীয় অঞ্চলেও এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে। আপাতত কিউবা সরকার তাদের জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড