নার্সের মৃত্যুর নেপথ্যে কী রহস্য
জামালপুরে নিজ ঘর থেকে এক নার্সের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। মরদেহে দাগ, ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি এবং জমি নিয়ে বিরোধ—সব মিলিয়ে রোকসানা আক্তার শিলার মৃত্যুর নেপথ্যে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
নিহত রোকসানা আক্তার শিলা শহরের সেবা জেনারেল হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মুকুন্দ বাড়ি এলাকার আব্দুর রশিদের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকসানার ওই বাড়িতে তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে রাহাতকে নিয়ে কয়েক বছর যাবৎ বসবাস করতেন। তার একাধিকবার বিয়ে হয়েছিল এবং তার বাসায় বিভিন্ন সময় অপরিচিত লোকজন আসা যাওয়া করতেন। কেউ কেউ বলছেন- তিনি দীর্ঘদিন থেকে মাদক সেবন করতেন। শিলার বর্তমান স্বামী ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তার ছেলে রাহাত শিলার সাথে কম থাকতেন এবং মুকুন্দ বাড়ি এলাকায় নানির বাড়ি বেশি থাকতেন।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নিহতের মা ছফিরন নেসা, ছেলে রাহাত ও নিহতের বোন চালা পাড়া এলাকায় শিলার বাড়িতে আসেন। সে সময় তারা ঘরের সদর দরজা ভিতর থেকে লাগানো দেখেন এবং ঘরের ভেতর থেকে উৎকট গন্ধ পান। তারপর তারা শিলাকে ডাকাডাকি করে কিন্তু শিলার কোনো সাড়া পাননি। পরে শিলার ছেলে বাড়ির ছাদের সিঁড়ির ওপরে থাকা টিনের চালা খুলে বাড়িতে প্রবেশ করে শিলার ঘরে তার মরদেহ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়রা জামালপুর সদর থানার পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, শিলা যে বাড়িতে থাকতো সেই বাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার খালাতো ভাই ফরিদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল।
নিহতের প্রতিবেশী রেজিয়া বেগম (৬৫) নামের একজন বলেন, মেয়েটার চরিত্র ভালো ছিল না। বাইরে থেকে অনেক ছেলেরা আসত তার ওখানে। তার কয়টা বিয়ে হয়েছে সেটা সঠিক বলতে পারছি না। তবে অনেক গুলো বিয়ে হয়েছিল। তার জামাইয়ের সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমাদের মনে হয় অতিরিক্ত নেশা করার কারণে মারা গেছে। শিলার ঘরের জালানার পাশে অনেকগুলো নেশার ইনজেকশন পড়ে থাকতে দেখেছি।
নিহত শিলার বোনের জামাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ফরিদের সাথে আপুর জমি নিয়ে ঝগড়া ছিল। কিছুদিন আগে ফরিদরা আপুকে মারধরও করেছে। ওরা জমির জন্য পরিকল্পিতভাবে আপুকে খুনও করতে পারে। আপুর মরদেহ যখন দেখি, তখন শরীরে অনেক দাগ ছিল। কীসের দাগ সেটা জানি না। ফরিদকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।
নিহতের মা ছফিরন নেসা বলেন, আমার মেয়ে এখানে একাই ছিল, সে সুস্থ ছিল। আমরা ১২টার দিকে এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পাই।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, রোকসানা আক্তার শিলার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই রোকসানার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। আর আমরা কাউকে আটক করিনি।
তবে এ বিষয়ে শিলা যে হাসপাতালে কাজ করতেন তারা ও ফরিদ বা তার পরিবারের কেউ কোনো কথা বলতে রাজি হননি।


















