নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে সাধারণ মানুষ
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এখনও ভোজ্যতেল ও মুরগির বাজারে অস্থিরতা কাটেনি। প্রায় মাসখানেক ধরে বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে পণ্য দুটি। এর সঙ্গে নতুন করে চিনির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বরাবরের মতোই চড়া সবজির বাজার।
ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারের দুর্বল তদারকির সুযোগে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর চাপ বেড়েই চলছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি সংকটে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও আগারগাঁও কাঁচাবাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিনের লিটার ১৯২ থেকে ১৯৫ ও পাম অয়েল ১৮৪ থেকে ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক-দেড় মাস আগে খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দর ছিল যথাক্রমে– ১৭৫ থেকে ১৮০ ও ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা।
অর্থাৎ, এক মাসে দুই জাতের ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ১৯ টাকা। যদিও সরকার নির্ধারিত দর যথাক্রমে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৬ ও পাম অয়েল ১৬৬ টাকা। কিন্তু বোতলের গায়ে দাম লেখা থাকায় এর চেয়ে বেশি দরে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন না বিক্রেতারা।
ফলে কেউ কেউ বোতল খুলে খোলা অবস্থায় বেশি দরে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিনির বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। মাসখানেক আগে চিনির কেজি ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। এখন দর বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। অর্থাৎ, কেজিতে বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা।
মুরগির বাজারে অস্থিরতা চলছে এক মাস ধরে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দরও বেড়েছে কিছুটা।
গত সপ্তাহে ফার্মের প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা দরে। ডজনে ১০ টাকা বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা দরে।
মুরগির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে গরুর মাংসের বাজারে। এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে মাংস কিনতে গেলে ক্রেতাকে কেজিতে গুনতে হবে কমবেশি ৮০০ টাকা।
সবজির বাজারে উত্তাপ কমেনি। দুই-তিনটি ছাড়া কোনো সবজি কেনা যাচ্ছে না ৭০ টাকার কমে। বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। গতকাল খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ৬০ থেকে ৭০, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা ৮০ থেকে ১০০, বেগুন ৮০ থেকে ১০০, পটোল ৭০ থেকে ৮০, বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি শসা ৬০ থেকে ৮০ ও টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশ কম দর দেখা গেছে কাঁচামরিচের। প্রতি কেজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।



















