Dhaka ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভিজাত এলাকার অধিকাংশ পয়ঃবর্জ্য পড়ছে লেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধাসভা নির্বাচন : চলছে দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ বিশ্বকাপ শেষেই একসঙ্গে অবসরে যাবেন নিউজিল্যান্ডের ৩ তারকা ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চাঁদপুর ও নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ-হাসপাতাল নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি হত্যা: হিশামের বিষয়ে পুলিশকে আগেই সতর্ক করেছিল পরিবার ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প মূত্রনালীতে পাথর কেন হয় জ্বালানি সংকটে ভরসা সোলার পাম্প

মূত্রনালীতে পাথর কেন হয়

12 / 100 SEO Score

 

কিডনি বা মূত্রনালীতে পাথরজনিত সমস্যায় অনেকেই ভুগেন। এ রোগে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, কখনও রক্ত— এমন বেশ কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ প্রতীয়মান হয়।

এই পাথর মূলত শরীরের ভেতরে জমে থাকা খনিজ ও লবণের শক্ত কণা। ছোট হলে অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না, তবে বড় হলে তা তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন তৈরি হয় এই পাথর?

শরীরে কীভাবে পাথর তৈরি হয়
মানুষের প্রস্রাবে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ থাকে, যা সাধারণত তরলের সঙ্গে বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনও কারণে যদি এসব পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় বা প্রস্রাব কম তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো একত্রিত হয়ে ধীরে ধীরে স্ফটিক তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এই স্ফটিক বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো কম পানি পান করা। শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন মাংস) বা অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, বাদাম) বেশি খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে বিষয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন—সব খাবার সবার জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়।

জিনগত কারণ
পরিবারে কারও এ ধরনের সমস্যা থাকলে অন্যদের মধ্যেও ঝুঁকি বেশি থাকে। অর্থাৎ, বংশগত কারণও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু রোগ ও শারীরিক অবস্থা
স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হরমোনজনিত অসামঞ্জস্য পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা বা বিছানায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

কিছু ওষুধের প্রভাব
নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মূত্রে খনিজের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

প্রস্রাব চেপে রাখা
দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা মূত্রনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

লক্ষণগুলো কেমন
পাথর ছোট থাকলে অনেক সময় কোনও লক্ষণ থাকে না। তবে বড় হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমিভাব কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শেষ কথা
মূত্রনালীর পাথর হঠাৎ তৈরি হয় না—এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই নিয়মিত পানি পান, সঠিক খাদ্যাভ্যাসসহ ছোট ছোট অভ্যাসই এই সমস্যা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরের নীরব সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলেই বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মূত্রনালীতে পাথর কেন হয়

Update Time : ০৫:৩৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

কিডনি বা মূত্রনালীতে পাথরজনিত সমস্যায় অনেকেই ভুগেন। এ রোগে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, কখনও রক্ত— এমন বেশ কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ প্রতীয়মান হয়।

এই পাথর মূলত শরীরের ভেতরে জমে থাকা খনিজ ও লবণের শক্ত কণা। ছোট হলে অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না, তবে বড় হলে তা তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন তৈরি হয় এই পাথর?

শরীরে কীভাবে পাথর তৈরি হয়
মানুষের প্রস্রাবে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ থাকে, যা সাধারণত তরলের সঙ্গে বের হয়ে যায়। কিন্তু কোনও কারণে যদি এসব পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে যায় বা প্রস্রাব কম তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো একত্রিত হয়ে ধীরে ধীরে স্ফটিক তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে এই স্ফটিক বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো কম পানি পান করা। শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থগুলো সহজে জমাট বাঁধে। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ঘামের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব
খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন মাংস) বা অক্সালেটসমৃদ্ধ খাবার (যেমন পালং শাক, বাদাম) বেশি খেলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে বিষয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন—সব খাবার সবার জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়।

জিনগত কারণ
পরিবারে কারও এ ধরনের সমস্যা থাকলে অন্যদের মধ্যেও ঝুঁকি বেশি থাকে। অর্থাৎ, বংশগত কারণও এখানে প্রভাব ফেলতে পারে।

কিছু রোগ ও শারীরিক অবস্থা
স্থূলতা, ডায়াবেটিস বা হরমোনজনিত অসামঞ্জস্য পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা বা বিছানায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই ঝুঁকি বেশি দেখা যায়।

কিছু ওষুধের প্রভাব
নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে মূত্রে খনিজের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে, যা পাথর তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

প্রস্রাব চেপে রাখা
দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা মূত্রনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। এতে পাথর তৈরির ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

লক্ষণগুলো কেমন
পাথর ছোট থাকলে অনেক সময় কোনও লক্ষণ থাকে না। তবে বড় হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমিভাব কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে।

কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

শেষ কথা
মূত্রনালীর পাথর হঠাৎ তৈরি হয় না—এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই নিয়মিত পানি পান, সঠিক খাদ্যাভ্যাসসহ ছোট ছোট অভ্যাসই এই সমস্যা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরের নীরব সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলেই বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।