Dhaka ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কৃতির রঙে রাঙা জলকেলি উৎসব

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

সংস্কৃতির বর্ণিল আবহে রাঙা হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব।

সাংগ্রাইয়ের সুর আর পানিবর্ষণের উচ্ছ্বাসে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা পুরোনো বছরের গ্লানি ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করেছেন আনন্দ-উল্লাসে, যা পাহাড়জুড়ে সৃষ্টি করেছে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার আবহ।

পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান পাতা উপলক্ষে বুধবার রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের চিৎমরম বৌদ্ধবিহার মাঠে আয়োজন করা হয় এ উৎসব।

ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই আমাদের এ বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সাংগ্রাই এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, এটি পাহাড়ের সব জাতি-গোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উৎসব আমাদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ, আজকের এ বিশাল মিলনমেলাই তার প্রমাণ।

তবে পাহাড়ের অনেক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে, যা রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে।

মারমা জনগোষ্ঠীরা পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ, অপশক্তিকে দূর করে ধুয়েমুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এ জলকেলি উৎসবে মেতে উঠেছেন।

জনশ্রুতিতে রয়েছে, জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে মারমা যুবক-যুবতীদের একে অন্যের সহচর্যে আসার সুযোগ হয়। এ সময় তারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেওয়ার কাজটিও সফলভাবে করে নেন।

দিনব্যাপী এ উৎসবে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে মারমা তরুণ-তরুণীরা মোট ১০৮টি দলে ভাগ হয়ে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে উৎসবে মাতেন।

তারা একে অপরের গায়ে পবিত্র পানি ছিটিয়ে মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বাদ্যের তালে তালে তরুণ-তরুণীদের এ পানিবর্ষণ পুরো এলাকায় এক নান্দনিক আবহ তৈরি করে। জলকেলির পাশাপাশি চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জলকেলি উৎসবকে ঘিরে মাঠে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলা। মেলায় রকমারি খাবারদাবার, কাপড়-চোপড় ও গৃহস্থালি সামগ্রীর পসরা বসানো হয়।

জলকেলিতে হাজার হাজার নারী-পুরষ, শিশু-কিশোর উৎসবস্থলে সমবেত হয়ে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গত রোববার থেকে নদীর পানিতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ে এ উৎসব শুরু হয়।

নতুন বছরের নব উদ্যোগের শুভ কামনা জানাতে বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালিত হয়। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সংস্কৃতির রঙে রাঙা জলকেলি উৎসব

Update Time : ০৫:৫৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

সংস্কৃতির বর্ণিল আবহে রাঙা হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব।

সাংগ্রাইয়ের সুর আর পানিবর্ষণের উচ্ছ্বাসে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা পুরোনো বছরের গ্লানি ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করেছেন আনন্দ-উল্লাসে, যা পাহাড়জুড়ে সৃষ্টি করেছে সম্প্রীতি ও মিলনমেলার আবহ।

পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু-বিষু-বিহু সাংক্রাইন, সাংক্রান পাতা উপলক্ষে বুধবার রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের চিৎমরম বৌদ্ধবিহার মাঠে আয়োজন করা হয় এ উৎসব।

ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

সামাজিক উৎসবের মাধ্যমেই আমাদের এ বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সাংগ্রাই এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের নয়, এটি পাহাড়ের সব জাতি-গোষ্ঠীর সম্প্রীতির উৎসবে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব উৎসব আমাদের শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ, আজকের এ বিশাল মিলনমেলাই তার প্রমাণ।

তবে পাহাড়ের অনেক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে, যা রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে।

মারমা জনগোষ্ঠীরা পুরোনো বছরের সব গ্লানি, দুঃখ, অপশক্তিকে দূর করে ধুয়েমুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এ জলকেলি উৎসবে মেতে উঠেছেন।

জনশ্রুতিতে রয়েছে, জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে মারমা যুবক-যুবতীদের একে অন্যের সহচর্যে আসার সুযোগ হয়। এ সময় তারা তাদের প্রিয় মানুষটিকে বেছে নেওয়ার কাজটিও সফলভাবে করে নেন।

দিনব্যাপী এ উৎসবে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে মারমা তরুণ-তরুণীরা মোট ১০৮টি দলে ভাগ হয়ে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে উৎসবে মাতেন।

তারা একে অপরের গায়ে পবিত্র পানি ছিটিয়ে মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বাদ্যের তালে তালে তরুণ-তরুণীদের এ পানিবর্ষণ পুরো এলাকায় এক নান্দনিক আবহ তৈরি করে। জলকেলির পাশাপাশি চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জলকেলি উৎসবকে ঘিরে মাঠে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলা। মেলায় রকমারি খাবারদাবার, কাপড়-চোপড় ও গৃহস্থালি সামগ্রীর পসরা বসানো হয়।

জলকেলিতে হাজার হাজার নারী-পুরষ, শিশু-কিশোর উৎসবস্থলে সমবেত হয়ে পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গত রোববার থেকে নদীর পানিতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী পাহাড়ে এ উৎসব শুরু হয়।

নতুন বছরের নব উদ্যোগের শুভ কামনা জানাতে বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালিত হয়। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ।