Dhaka ০২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুস্থ থাকতে বাইরে কাটান ১৭ মিনিট

8 / 100 SEO Score

 

দিনটা যদি এমন হয়—বিছানা, অফিস, আবার বাড়ি, তারপর সোফা, সেখান থেকে বিছানা; তাহলে যতটুকু দরকার তার চেয়েও বেশি সময় ঘরের ভেতর কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অপরাহ্‌ উইনফ্রে চিকিৎসক ড. জন লা পুমার সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। আধুনিক জীবনে ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটানোর বিষয়টিকে তিনি ‘ইনডোর এপিডেমিক’ বলছেন। এটি জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করে ফেলছে আমাদের অজান্তেই। সমাধানে তাঁর সহজ পরামর্শ—প্রতিদিন অন্তত ১৭ মিনিট বাইরে কাটান।

বাইরে ১৭ মিনিট থাকলেই সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে বা ঘুম ঠিক হয়ে যাবে, গবেষণা কিন্তু এমন কিছু বলছে না। তবে নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকাটা মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ দিনের প্রায় ৯৩ শতাংশ সময় ঘরের ভেতরেই কাটায়। বাড়ি, অফিস কিংবা যাতায়াত—সব মিলিয়ে দিনের বড় একটা সময় কেটে যায় চারদেয়ালের মধ্যে।

এতে প্রকৃতির আলো, খোলা বাতাস, হাঁটাচলা ও গাছপালার কাছাকাছি থাকার সুযোগও কমে যায়। ইতালির বংশোদ্ভূত মার্কিন বোর্ড-সার্টিফায়েড মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (ইন্টারনিস্ট), প্রশিক্ষিত শেফ এবং প্রকৃতিবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করা কৃষক ড. লা পুমার নতুন বই ‘ইনডোর এপিডেমিক’-এ ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটানোর সঙ্গে ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক চাপের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপনের সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের যোগসূত্র নিয়ে কাজের জন্য লা পুমা সুপরিচিত। তাঁকে ‘কালিনারি মেডিসিন’ বা খাদ্যভিত্তিক চিকিৎসা ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে ধরা হয়।

ড. লা পুমার মতে, দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর কাটালে প্রাকৃতিক আলো, শরীরচর্চা ও প্রকৃতির সংস্পর্শ—এই তিনটি পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। অথচ এসব আমাদের মন-মেজাজ এবং সামগ্রিকভাবে ভালো থাকার সঙ্গে যুক্ত। তবে সমাধানের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। প্রতিদিন শুধু একটু সময়ের জন্য বাইরে বের হওয়া প্রয়োজন।

১৭ মিনিট কেন?
সব সমস্যারই সমাধান আছে, আর এটির সমাধান বেশ সহজ। এর জন্য হঠাৎ ভোরে উঠে পাহাড়ে হাঁটতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে না! শুধু ঘরের বাইরে বের হতে হবে। সেটাও ১৭ মিনিটের জন্য।

এই ১৭ মিনিটের পরামর্শের পেছনে গবেষণাও আছে। ২০১৯ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ইংল্যান্ডের প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট সময় প্রকৃতির মধ্যে কাটানো মানুষদের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিকভাবে ভালো থাকার অনুভূতি তুলনামূলক বেশি।

সারা দিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার মাঝে একটু বিরতি নিন। ফোন নামিয়ে বাইরে বের হন। আকাশ দেখুন, গাছ দেখুন, একটু হাঁটুন। শুরুটা হোক ১৭ মিনিট দিয়ে

সপ্তাহে ২০০ থেকে ৩০০ মিনিটের কাছাকাছি গেলে উপকারের মাত্রা খুব একটা বাড়েনি। আর এই ১২০ মিনিট একবারে কাটাতে হবে, এমনও নয়; সপ্তাহজুড়েই ভাগ করে নেওয়া যাবে সময়টি।

এবার ১২০ মিনিটকে সাত দিনে ভাগ করুন। হিসাব করলে প্রতিদিন দাঁড়ায় ১৭ মিনিটের একটু বেশি। ড. লা পুমার প্রতিদিন ১৭ মিনিট বাইরে থাকার পরামর্শের ভিত্তিটা এসেছে এখান থেকেই।

তবে অফিস থেকে পার্কিংয়ে যাওয়ার পাঁচ মিনিটকে হিসাবের মধ্যে ফেললে চলবে না! উদ্দেশ্য হলো, ইচ্ছা করেই দিনের কিছুটা সময় বাইরে কাটানো। সম্ভব হলে গাছপালা, খোলা আকাশ বা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে হবে।

১৭ মিনিট কীভাবে কাটাবেন?
এর জন্য আলাদা কোনো রুটিন বানানোর দরকার নেই।

সকালের চা বারান্দায় বসে খেতে পারেন।

ফোনে কথা বলার সময় একটু হাঁটতে পারেন।

দুপুরের বা রাতের খাবারের পর ৫-১০ মিনিট বাইরে হাঁটুন।

পার্কে বসে বই পড়তে পারেন।

গাছপালার পাশে বসে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকতে পারেন।

ছাদেও যেতে পারেন।

১৭ মিনিট কোনো জাদুকরি সংখ্যা নয়। বাইরে ১৭ মিনিট থাকলেই সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে বা ঘুম ঠিক হয়ে যাবে, গবেষণা কিন্তু এমন কিছু বলছে না। তবে নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকাটা মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

সারা দিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার মাঝে একটু বিরতি নিন। ফোন নামিয়ে বাইরে বের হন। আকাশ দেখুন, গাছ দেখুন, একটু হাঁটুন। শুরুটা হোক ১৭ মিনিট দিয়ে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

5 × 1 =

About Author Information

সুস্থ থাকতে বাইরে কাটান ১৭ মিনিট

Update Time : ০৬:৪৯:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

দিনটা যদি এমন হয়—বিছানা, অফিস, আবার বাড়ি, তারপর সোফা, সেখান থেকে বিছানা; তাহলে যতটুকু দরকার তার চেয়েও বেশি সময় ঘরের ভেতর কাটাচ্ছেন। সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অপরাহ্‌ উইনফ্রে চিকিৎসক ড. জন লা পুমার সঙ্গে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। আধুনিক জীবনে ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটানোর বিষয়টিকে তিনি ‘ইনডোর এপিডেমিক’ বলছেন। এটি জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি করে ফেলছে আমাদের অজান্তেই। সমাধানে তাঁর সহজ পরামর্শ—প্রতিদিন অন্তত ১৭ মিনিট বাইরে কাটান।

বাইরে ১৭ মিনিট থাকলেই সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে বা ঘুম ঠিক হয়ে যাবে, গবেষণা কিন্তু এমন কিছু বলছে না। তবে নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকাটা মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ দিনের প্রায় ৯৩ শতাংশ সময় ঘরের ভেতরেই কাটায়। বাড়ি, অফিস কিংবা যাতায়াত—সব মিলিয়ে দিনের বড় একটা সময় কেটে যায় চারদেয়ালের মধ্যে।

এতে প্রকৃতির আলো, খোলা বাতাস, হাঁটাচলা ও গাছপালার কাছাকাছি থাকার সুযোগও কমে যায়। ইতালির বংশোদ্ভূত মার্কিন বোর্ড-সার্টিফায়েড মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (ইন্টারনিস্ট), প্রশিক্ষিত শেফ এবং প্রকৃতিবান্ধব পদ্ধতিতে চাষ করা কৃষক ড. লা পুমার নতুন বই ‘ইনডোর এপিডেমিক’-এ ঘরের ভেতর বেশি সময় কাটানোর সঙ্গে ঘুম, মনোযোগ ও মানসিক চাপের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর খাবার ও জীবনযাপনের সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের যোগসূত্র নিয়ে কাজের জন্য লা পুমা সুপরিচিত। তাঁকে ‘কালিনারি মেডিসিন’ বা খাদ্যভিত্তিক চিকিৎসা ধারণার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে ধরা হয়।

ড. লা পুমার মতে, দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতর কাটালে প্রাকৃতিক আলো, শরীরচর্চা ও প্রকৃতির সংস্পর্শ—এই তিনটি পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। অথচ এসব আমাদের মন-মেজাজ এবং সামগ্রিকভাবে ভালো থাকার সঙ্গে যুক্ত। তবে সমাধানের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার নেই। প্রতিদিন শুধু একটু সময়ের জন্য বাইরে বের হওয়া প্রয়োজন।

১৭ মিনিট কেন?
সব সমস্যারই সমাধান আছে, আর এটির সমাধান বেশ সহজ। এর জন্য হঠাৎ ভোরে উঠে পাহাড়ে হাঁটতে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে না! শুধু ঘরের বাইরে বের হতে হবে। সেটাও ১৭ মিনিটের জন্য।

এই ১৭ মিনিটের পরামর্শের পেছনে গবেষণাও আছে। ২০১৯ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ইংল্যান্ডের প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট সময় প্রকৃতির মধ্যে কাটানো মানুষদের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিকভাবে ভালো থাকার অনুভূতি তুলনামূলক বেশি।

সারা দিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার মাঝে একটু বিরতি নিন। ফোন নামিয়ে বাইরে বের হন। আকাশ দেখুন, গাছ দেখুন, একটু হাঁটুন। শুরুটা হোক ১৭ মিনিট দিয়ে

সপ্তাহে ২০০ থেকে ৩০০ মিনিটের কাছাকাছি গেলে উপকারের মাত্রা খুব একটা বাড়েনি। আর এই ১২০ মিনিট একবারে কাটাতে হবে, এমনও নয়; সপ্তাহজুড়েই ভাগ করে নেওয়া যাবে সময়টি।

এবার ১২০ মিনিটকে সাত দিনে ভাগ করুন। হিসাব করলে প্রতিদিন দাঁড়ায় ১৭ মিনিটের একটু বেশি। ড. লা পুমার প্রতিদিন ১৭ মিনিট বাইরে থাকার পরামর্শের ভিত্তিটা এসেছে এখান থেকেই।

তবে অফিস থেকে পার্কিংয়ে যাওয়ার পাঁচ মিনিটকে হিসাবের মধ্যে ফেললে চলবে না! উদ্দেশ্য হলো, ইচ্ছা করেই দিনের কিছুটা সময় বাইরে কাটানো। সম্ভব হলে গাছপালা, খোলা আকাশ বা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে হবে।

১৭ মিনিট কীভাবে কাটাবেন?
এর জন্য আলাদা কোনো রুটিন বানানোর দরকার নেই।

সকালের চা বারান্দায় বসে খেতে পারেন।

ফোনে কথা বলার সময় একটু হাঁটতে পারেন।

দুপুরের বা রাতের খাবারের পর ৫-১০ মিনিট বাইরে হাঁটুন।

পার্কে বসে বই পড়তে পারেন।

গাছপালার পাশে বসে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকতে পারেন।

ছাদেও যেতে পারেন।

১৭ মিনিট কোনো জাদুকরি সংখ্যা নয়। বাইরে ১৭ মিনিট থাকলেই সব দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে বা ঘুম ঠিক হয়ে যাবে, গবেষণা কিন্তু এমন কিছু বলছে না। তবে নিয়মিত প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকাটা মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত।

সারা দিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার মাঝে একটু বিরতি নিন। ফোন নামিয়ে বাইরে বের হন। আকাশ দেখুন, গাছ দেখুন, একটু হাঁটুন। শুরুটা হোক ১৭ মিনিট দিয়ে।