Dhaka ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করল ইরান

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই চরম অস্থিরতার মূলে রয়েছে যুদ্ধবিরতির শর্ত ও এর আওতা নিয়ে অস্পষ্টতা। শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ রাখাও ছিল এই চুক্তির অংশ।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি নাকচ করে দিয়ে আজ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ‘সবচেয়ে বড়’ সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে। তেল আবিবের স্পষ্ট দাবি, এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; লেবাননে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লেবাননে এই ব্যাপক হামলার পরপরই কঠোর অবস্থান নেয় তেহরান। ফারস নিউজ জানায়, সকালে মাত্র দুটি ট্যাংকারকে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও হামলার খবর আসার সাথে সাথে ইরান বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলেছেন। তেহরান থেকে সতর্ক করা হয়েছে, লেবাননে হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে তারা এই শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে এবং পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের মুখে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কয়েক শ তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভারত মহাসাগরে আটকা পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করল ইরান

Update Time : ০৫:৩৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিবাদে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ‘ফারস নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই চরম অস্থিরতার মূলে রয়েছে যুদ্ধবিরতির শর্ত ও এর আওতা নিয়ে অস্পষ্টতা। শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দাবি করেছিলেন, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ হিজবুল্লাহর ওপর হামলা বন্ধ রাখাও ছিল এই চুক্তির অংশ।

তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই দাবি নাকচ করে দিয়ে আজ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ‘সবচেয়ে বড়’ সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে। তেল আবিবের স্পষ্ট দাবি, এই যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; লেবাননে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

লেবাননে এই ব্যাপক হামলার পরপরই কঠোর অবস্থান নেয় তেহরান। ফারস নিউজ জানায়, সকালে মাত্র দুটি ট্যাংকারকে প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও হামলার খবর আসার সাথে সাথে ইরান বাকি সব ট্যাংকারের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলেছেন। তেহরান থেকে সতর্ক করা হয়েছে, লেবাননে হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে তারা এই শান্তিচুক্তি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে এবং পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলটিমেটামের মুখে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে কয়েক শ তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার ভারত মহাসাগরে আটকা পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।