Dhaka ০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মদপার্টি, ৮৫ জনকে কারাদন্ড দিলেন ডিএমপি স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
5 / 100 SEO Score

 

গত মঙ্গলবার রাতে ৩০০ ফিট সড়কের পাশে পুলিশ হাউজিং সোসাইটি-১ এর একটি ভাড়া বাসায় ডিবি অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে। এই বাড়ির মালিক পুলিশ হেডকোয়াটারে অতিরিক্ত ডিআইজি (আব্দুল্লাহ আল জহির)। পুলিশ হাউজিং এ নিরাপদ এলাকার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এই বাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ডিবি পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালায়। পুলিশ হেডকোয়াটার এর অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে অভিযান থামাতে কোন তদবির কাজে আসেনি। অভিযানে ডিবি এবং সরকার কঠোর ভূমিকা নেয়।

এখানে আটকরা কেউ আম জনতা নয়। আটকরা প্রায় সবাই এলিট ঘরনার। সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সন্তান, সরকারী উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তার সন্তান, রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজন, ব্যবসায়ী সহ এলিট সোসাইটির লোকজন আটক হয় এই অভিযানে।

আটক ৮৫ জনের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ১৬ জন মহিলা। ডিবি সূত্রে যানা যায় যে, অভিযানে বাসাটি থেকে গাজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সারঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তিন তলা এই বাড়ীতে নিয়মিত মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলতো। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম মিডিয়ার নিকট জানান যে, অতিরিক্ত ডিআইজি অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যারা ভাড়া নিয়েছেন তারা মাদক সংক্রান্ত কাজে বাড়িটি ব্যবহার করতো।

এই ঘটনায় আসামীদেরকে জনাব আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, গুলশান জোন এর আদালতে বুধবার উপস্থাপন করা হলে আদালত মামলা গ্রহন করে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৮৫ জনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দন্ড প্রদান করেন। ৫৯ জন পুরুষ আসামী প্রত্যেককে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড তৎসহ প্রত্যেককে ১০০০/- টাকা অর্থ দন্ড অনাদায়ে আরো ৫ দিনের কারাদণ্ড। ১৬ জন মহিলা প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড সহ প্রত্যেককে ৫০০/- টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

সমাজের নিরাপদ এলাকাগুলোতে গটা অপরাধের ঘটনা সহসাই আইনের আওতায় আসে না। আবার এসব ঘটনায় এলিট শ্রেনীর লোকজন আটক হলে তদবির তাগাদা করে ছাড়া পেয়ে যায় বা কোন মামলা হলে জামিন, তদন্তের মাঝে বিচার প্রকৃয়া হারিয়ে যায়। ফলে অপরাধের ঘটনা অনেক হলেও দন্ড হওয়ার ঘটনা খুবি সীমিত সংখ্যক। অপরাধ ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতের সামনে উপস্থাপন এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যেমে বিচার এই বিধান অনেক আগে থেকেই আইনে থাকলেও এর প্রয়োগ ছিলনা। অথচ বাংলাদেশের মতো এতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে এবং আইন শৃংখলা রক্ষায় সামারি ট্রায়াল করা খুবি জরুরি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রত্যেক বিভাগে ১ টি করে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট চালু আছে। এসব কোর্টে একজন করে আইন কানুন ও বিচারিক কাজে অভিজ্ঞ দক্ষ বিচারকগন বিচার কার্য পরিচালনা করেন। সামারি ট্রায়ালের এখতিয়ারের আওতায় সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় আসামীদেরকে পুরাতন ঢাকায় অবস্থিত কোর্টে নেয়া হয়না এবং দিনের পর দিন বিচারের জন্য সময়ক্ষেপণ হয়না। উত্তরারের ঘটনার বিচার উত্তরায়ই শেষ, মিরপুরের ঘটনার বিচার মিরপুরেই শেষ এবং অপরাধের বিচার এক দিনে হওয়ায় সাজার হার সর্বোচ্চ পরিমান। একই সাথে ট্রাফিক সংক্রান্ত লক্ষাধিক মামলা এই আদালতগুলোতে দ্রুততার সাথে শেষ হচ্ছে।

অনেক বিদ্যমান সমস্যার মধ্যেও বর্তমান সরকারের আইন শৃংখলা রক্ষা কঠোর ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ হেডকোয়াটারে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় পুলিশের অভিযান এই উদাহরণ খুবি বিরল। এই ঘটনায় উক্ত অতিরিক্ত ডিআইজিকে ইতোমধ্যে তার পদ থেকে সরিয় দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষায় সরকারের এই কঠোর ভূমিকা এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার প্রদান সমাজে অপরাধ প্রবনতাকে কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

six + 2 =

About Author Information

অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মদপার্টি, ৮৫ জনকে কারাদন্ড দিলেন ডিএমপি স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

Update Time : ০৮:০২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
5 / 100 SEO Score

 

গত মঙ্গলবার রাতে ৩০০ ফিট সড়কের পাশে পুলিশ হাউজিং সোসাইটি-১ এর একটি ভাড়া বাসায় ডিবি অভিযান চালিয়ে ৮৫ জনকে আটক করে। এই বাড়ির মালিক পুলিশ হেডকোয়াটারে অতিরিক্ত ডিআইজি (আব্দুল্লাহ আল জহির)। পুলিশ হাউজিং এ নিরাপদ এলাকার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে এই বাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ডিবি পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালায়। পুলিশ হেডকোয়াটার এর অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে অভিযান থামাতে কোন তদবির কাজে আসেনি। অভিযানে ডিবি এবং সরকার কঠোর ভূমিকা নেয়।

এখানে আটকরা কেউ আম জনতা নয়। আটকরা প্রায় সবাই এলিট ঘরনার। সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সন্তান, সরকারী উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তার সন্তান, রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজন, ব্যবসায়ী সহ এলিট সোসাইটির লোকজন আটক হয় এই অভিযানে।

আটক ৮৫ জনের মধ্যে ৫৯ জন পুরুষ ১৬ জন মহিলা। ডিবি সূত্রে যানা যায় যে, অভিযানে বাসাটি থেকে গাজা, ইয়াবা, মদ ও ইয়াবা সেবনের সারঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। তিন তলা এই বাড়ীতে নিয়মিত মাদক সেবন ও ডিজে পার্টি চলতো। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম মিডিয়ার নিকট জানান যে, অতিরিক্ত ডিআইজি অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। যারা ভাড়া নিয়েছেন তারা মাদক সংক্রান্ত কাজে বাড়িটি ব্যবহার করতো।

এই ঘটনায় আসামীদেরকে জনাব আসাদুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, গুলশান জোন এর আদালতে বুধবার উপস্থাপন করা হলে আদালত মামলা গ্রহন করে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ৮৫ জনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দন্ড প্রদান করেন। ৫৯ জন পুরুষ আসামী প্রত্যেককে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড তৎসহ প্রত্যেককে ১০০০/- টাকা অর্থ দন্ড অনাদায়ে আরো ৫ দিনের কারাদণ্ড। ১৬ জন মহিলা প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড সহ প্রত্যেককে ৫০০/- টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

সমাজের নিরাপদ এলাকাগুলোতে গটা অপরাধের ঘটনা সহসাই আইনের আওতায় আসে না। আবার এসব ঘটনায় এলিট শ্রেনীর লোকজন আটক হলে তদবির তাগাদা করে ছাড়া পেয়ে যায় বা কোন মামলা হলে জামিন, তদন্তের মাঝে বিচার প্রকৃয়া হারিয়ে যায়। ফলে অপরাধের ঘটনা অনেক হলেও দন্ড হওয়ার ঘটনা খুবি সীমিত সংখ্যক। অপরাধ ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতের সামনে উপস্থাপন এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যেমে বিচার এই বিধান অনেক আগে থেকেই আইনে থাকলেও এর প্রয়োগ ছিলনা। অথচ বাংলাদেশের মতো এতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে এবং আইন শৃংখলা রক্ষায় সামারি ট্রায়াল করা খুবি জরুরি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রত্যেক বিভাগে ১ টি করে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট চালু আছে। এসব কোর্টে একজন করে আইন কানুন ও বিচারিক কাজে অভিজ্ঞ দক্ষ বিচারকগন বিচার কার্য পরিচালনা করেন। সামারি ট্রায়ালের এখতিয়ারের আওতায় সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় আসামীদেরকে পুরাতন ঢাকায় অবস্থিত কোর্টে নেয়া হয়না এবং দিনের পর দিন বিচারের জন্য সময়ক্ষেপণ হয়না। উত্তরারের ঘটনার বিচার উত্তরায়ই শেষ, মিরপুরের ঘটনার বিচার মিরপুরেই শেষ এবং অপরাধের বিচার এক দিনে হওয়ায় সাজার হার সর্বোচ্চ পরিমান। একই সাথে ট্রাফিক সংক্রান্ত লক্ষাধিক মামলা এই আদালতগুলোতে দ্রুততার সাথে শেষ হচ্ছে।

অনেক বিদ্যমান সমস্যার মধ্যেও বর্তমান সরকারের আইন শৃংখলা রক্ষা কঠোর ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ হেডকোয়াটারে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় পুলিশের অভিযান এই উদাহরণ খুবি বিরল। এই ঘটনায় উক্ত অতিরিক্ত ডিআইজিকে ইতোমধ্যে তার পদ থেকে সরিয় দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষায় সরকারের এই কঠোর ভূমিকা এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার প্রদান সমাজে অপরাধ প্রবনতাকে কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।