Dhaka ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ আজ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

5 / 100 SEO Score

দশদিন আগে যুদ্ধ শুরুর পর আজ (মঙ্গলবার) ইরানের ওপর ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান সবচেয়ে কম সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে যেসব মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন।

সংঘাতের হালনাগাদ তথ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী তাদের তিনটি প্রধান লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব লক্ষ্য হলো, মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস, ইরানের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালানো ও দুর্বল করা এবং ইরান যেন আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানের ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রবণতা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের মাইন-স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে আঘাত হানছে। এই অভিযানকে ‘কঠিন ও নিরলস কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি যৌথ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল ‘আমেরিকার পক্ষেই থাকবে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলিং’ মেনে নেবে না।এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর ‘২০ গুণ বেশি শক্তিতে’ আঘাত করা হবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেন।ইরানে বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে পেন্টাগন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে; এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি সতর্কতা আর কোনও দেশ গ্রহণ করে না।তিনি বলেন, তদন্ত করার মতো কোনও ঘটনা ঘটলে আমরা অবশ্যই তা তদন্ত করব। তবে কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণের মাধ্যম উন্মুক্ত তথ্যসূত্র হতে পারে না।

ইরান সরকার ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত বলে যে দাবি করেছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ বলেন, সম্মুখ সমরে থাকা সেনাদের যথাযথ সুরক্ষায় সব ধরনের রসদ সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র। জেনারেল কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী এখন ‘তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে’ চলাচল করতে পারছে। তবে ঝুঁকি সবসময়ই থাকে।উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশগুলোর ওপর হামলা করে ইরান বড় ভুল করেছে। এটি ইরানের চরম হঠকারিতা।তিনি মনে করেন, ইরান ভুল হিসাব কষেছে। কারণ তাদের এই আচরণের ফলে প্রতিবেশি দেশগুলো উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে। হেগসেথ বলেন, ইরানের নতুন নেতার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি মেনে চলা।ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন বলে যে খবর রটেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে হেগসেথ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। সবশেষে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ অন্তহীন বা দীর্ঘস্থায়ী নয়। এটি এখন শুরুর দিকে না কি শেষের দিকে—তা নির্ধারণ করা আমার কাজ নয়; এটি প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইরানে ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ আজ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

Update Time : ০৫:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
5 / 100 SEO Score

দশদিন আগে যুদ্ধ শুরুর পর আজ (মঙ্গলবার) ইরানের ওপর ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান সবচেয়ে কম সংখ্যক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়ে যেসব মার্কিন সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল ড্যান কেইন।

সংঘাতের হালনাগাদ তথ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী তাদের তিনটি প্রধান লক্ষ্যের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এসব লক্ষ্য হলো, মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার আগেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস, ইরানের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালানো ও দুর্বল করা এবং ইরান যেন আগামী কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ওপর হামলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, যুদ্ধের শুরুর দিকের তুলনায় বর্তমানের ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রবণতা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের মাইন-স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে আঘাত হানছে। এই অভিযানকে ‘কঠিন ও নিরলস কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি যৌথ বাহিনীর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

আর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল ‘আমেরিকার পক্ষেই থাকবে’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলিং’ মেনে নেবে না।এর আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর ‘২০ গুণ বেশি শক্তিতে’ আঘাত করা হবে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেন।ইরানে বেসামরিক প্রাণহানি কমাতে পেন্টাগন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে; এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি সতর্কতা আর কোনও দেশ গ্রহণ করে না।তিনি বলেন, তদন্ত করার মতো কোনও ঘটনা ঘটলে আমরা অবশ্যই তা তদন্ত করব। তবে কোনও ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নির্ধারণের মাধ্যম উন্মুক্ত তথ্যসূত্র হতে পারে না।

ইরান সরকার ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত বলে যে দাবি করেছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হেগসেথ বলেন, সম্মুখ সমরে থাকা সেনাদের যথাযথ সুরক্ষায় সব ধরনের রসদ সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র। জেনারেল কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী এখন ‘তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে’ চলাচল করতে পারছে। তবে ঝুঁকি সবসময়ই থাকে।উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশি দেশগুলোর ওপর হামলা করে ইরান বড় ভুল করেছে। এটি ইরানের চরম হঠকারিতা।তিনি মনে করেন, ইরান ভুল হিসাব কষেছে। কারণ তাদের এই আচরণের ফলে প্রতিবেশি দেশগুলো উল্টো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিচ্ছে। হেগসেথ বলেন, ইরানের নতুন নেতার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি মেনে চলা।ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন বলে যে খবর রটেছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে হেগসেথ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। সবশেষে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ অন্তহীন বা দীর্ঘস্থায়ী নয়। এটি এখন শুরুর দিকে না কি শেষের দিকে—তা নির্ধারণ করা আমার কাজ নয়; এটি প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।