একই নামে শরিক হয়ে দুই ভাই কি কোরবানি দিতে পারবেন?
প্রশ্ন: আমরা দুই ভাই মায়ের সঙ্গে একই সংসারে আছি। আমরা দুইজন মিলে একটি ছাগল বা গরুর একটি নামে শরিক হয়ে কোরবানি করলে কি আমাদের কোরবানি আদায় হবে?
উত্তর: একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দুই বা তিন ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায় না। উট, গরু ও মহিষ আট, নয় বা দশ ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায় না। কোরবানির একটি নাম বা একটি ভাগে একাধিক ব্যক্তিও শরিক হতে পারেন না, তারা এক সংসারে থাকা দুই ভাই হলেও। এক নামে একাধিক ব্যক্তি শরিক হলে ওই কোরবানি শুদ্ধ হয় না।
আপনাদের ওপর যদি কোরবানি ওয়াজিব না হয়ে থাকে, তাহলে আপনারা দুই ভাই মিলে মায়ের নামে কোরবানি করতে পারেন অথবা আপনাদের একজনের নামে কোরবানি করতে পারেন। মায়ের নামে কোরবানি করলে আপনারা দুইজন মিলে কোরবানির টাকা বা পশুর মালিক মাকে বানিয়ে দেবেন, তারপর তার নামে কোরবানি হবে। যে কোনো এক ভাইয়ের নামে কোরবানি করলে অন্য ভাই তাকে তার অংশের টাকা বা পশুর মালিক বানিয়ে দেবেন, তারপর তার নামে কোরবানি হবে। কোরবানির মাংস আপনাদের যৌথ সংসারে সবাই মিলে খেতে পারবেন, তাতে সমস্যা হবে না।
আর আপনারা যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে থাকেন এবং আপনাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে দুইজনের পক্ষ থেকে পৃথক কোরবানি করা অর্থাৎ একটি কোরবানির উপযুক্ত ছাগল, ভেড়া, দুম্বা অথবা গরু, মহিষ বা উটের কমপক্ষে এক সপ্তমাংশ কোরবানি করা ওয়াজিব।
দুইজনের পক্ষ থেকে এক নামের কোরবানি করলে আপনাদের কোরবানি যেমন শুদ্ধ হবে না, ওই গরুর অন্য অংশিদারদের কোরবানিও শুদ্ধ হবে না। তাই এ ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে।
ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এ তিন পশু একজনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা যায়। উট, গরু ও মহিষ এ তিন পশু কোরবানিতে সর্বোচ্চ সাতজন শরিক হতে পারে যেমন ওপরেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জাবের (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে হজের ইহরাম বেঁধে রওয়ানা হলাম। তিনি উট ও গরু কোরবানির জন্য সাতজন করে শরিক হওয়ার নির্দেশ দিলেন। (সহিহ মুসলিম: ১৩১৮, ৩০৪৯)
তবে একটি গরু, উট বা মহিষ কোরবানিতে সাত শরিক থাকা বা সাতটি নাম থাকা জরুরি নয়। এক গরু এক নামেও কোরবানি করা যায়। দুই, তিন, চার বা পাঁচ নামেও কোরবানি করা যায়। এ রকম ক্ষেত্রে যে কয়জন শরিক থাকবে, সবাই ওই পশু কেনায় সমান অর্থ দেবে এবং মাংসও সমানভাবে ভাগ করে নেবে।
অনেকে মনে করেন, একটি গরু কোরবানিতে সাতজন শরিক থাকা বা সাতটি নাম থাকা জরুরি। এ ধারণা সঠিক নয়। সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক থাকার সুযোগ রাখা হয়েছে, সাত নাম বা সাত শরিক রাখা আবশ্যক করা হয়নি।




















