Dhaka ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান মারা গেছেন

12 / 100 SEO Score

একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। ১৯৪৭ সালে তৎকালীন ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রথম তার গান প্রচারিত হয়। পঞ্চাশ ও সত্তর দশকের রেডিও এবং চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গানের কারিগর ছিলেন তিনি। মূলত পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার দখল ছিল ঈর্ষণীয়। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছিলেন।

এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তার গাওয়া ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি আজীবন শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। এরপর জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ কিংবা ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’ এমন সব গান তাকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে। ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘সোনার কাজল’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে তিনি নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৫০ সালে তিনি আবুল হাসনাতের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে পারিবারিক অমতে হওয়া সেই বিয়ে টেকেনি। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সংগীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা ইসলাম।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান মারা গেছেন

Update Time : ০১:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
12 / 100 SEO Score

একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। ১৯৪৭ সালে তৎকালীন ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রথম তার গান প্রচারিত হয়। পঞ্চাশ ও সত্তর দশকের রেডিও এবং চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গানের কারিগর ছিলেন তিনি। মূলত পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার দখল ছিল ঈর্ষণীয়। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছিলেন।

এ দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ সমর দাসের সুরে তার গাওয়া ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি আজীবন শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। এরপর জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ কিংবা ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’ এমন সব গান তাকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে। ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘সোনার কাজল’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে তিনি নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন। ১৯৫০ সালে তিনি আবুল হাসনাতের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে পারিবারিক অমতে হওয়া সেই বিয়ে টেকেনি। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সংগীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা ইসলাম।