Dhaka ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কালবৈশাখী ঝড়ে কোটি টাকার লবণ মিশে গেছে পানিতে, ক্ষতির মুখে চাষিরা

12 / 100 SEO Score

 

কক্সবাজারে কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ গত তিন দিনে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে গিয়ে প্রান্তিক চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ও ঈদগাঁও, পেকুয়ার মগনামা ও রাজাখালী, মহেশখালীর কুতুবজোম ও বড় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ায় বেশকিছু লবণ মাঠে লবণ গলে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা বেড বা কাই নষ্ট হয়ে গেছে।

লবণচাষিরা জানান, নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে।

কুতুবজুমের লবণচাষি নুর আহমদ বলেন, বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে এসে মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে।

কুতুবদিয়ার লবণমাঠ মালিক আনসার উল্লাহ বলেন, ঋণ করে মাঠ নিয়েছি, কালবৈশাখীতে সব শেষ এমনিতেই লবণের দাম কম। এখন কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদনে অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় বাড়বে, যা জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও শঙ্কা তৈরি করছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এই লক্ষ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত।

এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতেই প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়, যেখানে অনুকূল আবহাওয়ায় গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন হয়—যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

কালবৈশাখী ঝড়ে কোটি টাকার লবণ মিশে গেছে পানিতে, ক্ষতির মুখে চাষিরা

Update Time : ০৬:১৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

কক্সবাজারে কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহের সর্বশেষ গত তিন দিনে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ পানিতে মিশে গিয়ে প্রান্তিক চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ও ঈদগাঁও, পেকুয়ার মগনামা ও রাজাখালী, মহেশখালীর কুতুবজোম ও বড় মহেশখালী এবং কুতুবদিয়ায় বেশকিছু লবণ মাঠে লবণ গলে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা বেড বা কাই নষ্ট হয়ে গেছে।

লবণচাষিরা জানান, নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে।

কুতুবজুমের লবণচাষি নুর আহমদ বলেন, বেশি লাভের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছিলাম। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে এসে মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে।

কুতুবদিয়ার লবণমাঠ মালিক আনসার উল্লাহ বলেন, ঋণ করে মাঠ নিয়েছি, কালবৈশাখীতে সব শেষ এমনিতেই লবণের দাম কম। এখন কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদনে অতিরিক্ত শ্রম ও জ্বালানি ব্যয় বাড়বে, যা জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও শঙ্কা তৈরি করছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। এই লক্ষ্যে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকায় প্রায় ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজারের বেশি চাষি লবণ উৎপাদনে নিয়োজিত।

এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতেই প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়, যেখানে অনুকূল আবহাওয়ায় গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন হয়—যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।