Dhaka ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশ

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

সাধারণত বাংলাদেশের ইলিশেই মেতে ওঠে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। তবে এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। গুজরাটের ভারুচ থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ। মূল আকর্ষণ বড় আকারের ডিম, যার কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেটে তৈরি হয়েছে বিশেষ চাহিদা। ফলে ইলিশের ঘাটতির সময়ে ভারতীয় ইলিশই এখন ভরসা হয়ে উঠছে বাংলাদেশের বাজারে।

তবে এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। গত দুই মাসে উল্টো ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৫০০ টন ইলিশ। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ যাবে বলে আশা সেখানকার ব্যবসায়ীদের।

গত বছর বাংলাদেশ সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ যাওয়া বন্ধ। কিন্তু এই একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ। বিষয়টি বেশ চাঞ্চেল্যের সৃষ্টি করেছে দুই দেশে।

ভারত থেকে যেসব ইলিশ আসছে সেগুলো গুজরাটের ভারুচের। গুজরাট ফিশারিজ কমিশনার বিজয় খারাদি বলেছেন, এবার গুজরাটে ১৪ হাজার ৫৮৮ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাগর থেকে ধরার পাশাপাশি সেখানকার নর্মদা নদীতেও ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা এসব ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করছেন।

গুজরাটের ইলিশে যেসব ডিম থাকে সেগুলোর আকার বাংলাদেশের ইলিশের ডিমের চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ডিমের ইলিশ খুব একটা খান না।

কিন্তু এই বড় ডিমের কারণে বাংলাদেশে এটির চাহিদা বেশি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের মানুষ এমন ইলিশ পছন্দ করেন। এই ডিমগুলো বের করে আলাদভাবে বিক্রি করা যায়। আর এ কারণেই মূলত বাংলাদেশে ভারত থেকে উল্টো ইলিশ আসছে।

পশ্চিমঙ্গের হাওড়ার পাইকারি মাছ রপ্তানিকারক সংগঠনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেছেন, “বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রথমবারের মতো ইলিশ আমদানি করছে। আমরা সাধারণত বোয়াল, রুই, পারশে এবং ট্যাংরা মাছ রপ্তানি করি। কিন্তু এ বছর বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি রয়েছে।”

তিনি আরও বলেছেন, “গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম থাকে। বাংলাদেশে যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রসেসিংয়ের পর এই ডিমগুলো আবার পুনরায় বিক্রি অথবা পুনরায় অন্য কোনো দেশে রপ্তানি করা হয়।”

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, আউটলুক

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

3 × three =

About Author Information

ডিমের টানে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশ

Update Time : ০৬:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সাধারণত বাংলাদেশের ইলিশেই মেতে ওঠে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। তবে এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। গুজরাটের ভারুচ থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ। মূল আকর্ষণ বড় আকারের ডিম, যার কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেটে তৈরি হয়েছে বিশেষ চাহিদা। ফলে ইলিশের ঘাটতির সময়ে ভারতীয় ইলিশই এখন ভরসা হয়ে উঠছে বাংলাদেশের বাজারে।

তবে এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। গত দুই মাসে উল্টো ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৫০০ টন ইলিশ। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ যাবে বলে আশা সেখানকার ব্যবসায়ীদের।

গত বছর বাংলাদেশ সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ যাওয়া বন্ধ। কিন্তু এই একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ। বিষয়টি বেশ চাঞ্চেল্যের সৃষ্টি করেছে দুই দেশে।

ভারত থেকে যেসব ইলিশ আসছে সেগুলো গুজরাটের ভারুচের। গুজরাট ফিশারিজ কমিশনার বিজয় খারাদি বলেছেন, এবার গুজরাটে ১৪ হাজার ৫৮৮ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাগর থেকে ধরার পাশাপাশি সেখানকার নর্মদা নদীতেও ইলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা এসব ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করছেন।

গুজরাটের ইলিশে যেসব ডিম থাকে সেগুলোর আকার বাংলাদেশের ইলিশের ডিমের চেয়ে অনেক বড়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ডিমের ইলিশ খুব একটা খান না।

কিন্তু এই বড় ডিমের কারণে বাংলাদেশে এটির চাহিদা বেশি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের মানুষ এমন ইলিশ পছন্দ করেন। এই ডিমগুলো বের করে আলাদভাবে বিক্রি করা যায়। আর এ কারণেই মূলত বাংলাদেশে ভারত থেকে উল্টো ইলিশ আসছে।

পশ্চিমঙ্গের হাওড়ার পাইকারি মাছ রপ্তানিকারক সংগঠনের সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেছেন, “বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রথমবারের মতো ইলিশ আমদানি করছে। আমরা সাধারণত বোয়াল, রুই, পারশে এবং ট্যাংরা মাছ রপ্তানি করি। কিন্তু এ বছর বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতি রয়েছে।”

তিনি আরও বলেছেন, “গুজরাটের ইলিশে প্রচুর ডিম থাকে। বাংলাদেশে যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রসেসিংয়ের পর এই ডিমগুলো আবার পুনরায় বিক্রি অথবা পুনরায় অন্য কোনো দেশে রপ্তানি করা হয়।”

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, আউটলুক