Dhaka ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্নফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বার্তায় একথা বলা হয়।

বার্তায় বলা হয়, একটি নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে না পারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুতর ব্যর্থতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। এই ঘটনার দায় নির্ধারণ, প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে ১ হাজার ৩২০ জনের প্রতিযোগিতা। এই সংখ্যা কেবল একটি নিয়োগ পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের কর্মসংস্থানের সংকট এবং সরকারি চাকরি ঘিরে লাখো তরুণের তীব্র আকাঙ্ক্ষার নির্মম প্রতিচ্ছবি। এত বিপুলসংখ্যক তরুণের ভবিষ্যৎ যখন একটি পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে, তখন প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা অটুট রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব।

বার্তায় আরও বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আগের রাত থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। অথচ বহু প্রার্থী দূরদূরান্ত থেকে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং প্রস্তুতির পেছনে অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা পান। তাদের অনেকেই ঋণ করে কিংবা পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে ঢাকায় এসেছেন। শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্ত তাদের আর্থিক ক্ষতি, মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযোগ সামনে আসার পরও কেন প্রার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো—তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।

এনসিপি মনে করে, পরীক্ষা স্থগিত করাই এই সংকটের সমাধান নয়। প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসমক্ষে স্পষ্ট তথ্য দেওয়ারও দাবি এনসিপির। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগাম দায়ী না করে, একই সঙ্গে কাউকে আড়াল না করে, স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপি আরও দাবি জানায়, ১৬ অক্টোবরের নির্ধারিত পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও কেন্দ্রগুলোতে বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা যাচাই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যারা পরীক্ষা দিতে এসে যাতায়াত ও আবাসনসহ অনিবার্য ব্যয় বহন করেছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত প্রতিকারের বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্র করে লাখো তরুণ আশায় বুক বাঁধেন। তাদের সেই প্রত্যাশাকে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তাহীনতার কাছে জিম্মি করে রাখা যায় না। চাকরিপ্রার্থীদের শ্রম ও মেধার মূল্যায়ন হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে—প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে নয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এই ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে একে কেবল একটি স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বার্তায় এনসিপি জানায়, তিন লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর সময়, অর্থ, শ্রম ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

1 × one =

About Author Information

প্রশ্নফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এনসিপি

Update Time : ০৫:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বার্তায় একথা বলা হয়।

বার্তায় বলা হয়, একটি নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে না পারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুতর ব্যর্থতার প্রশ্ন সামনে এনেছে। এই ঘটনার দায় নির্ধারণ, প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অর্থাৎ প্রতিটি পদের বিপরীতে গড়ে ১ হাজার ৩২০ জনের প্রতিযোগিতা। এই সংখ্যা কেবল একটি নিয়োগ পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়; এটি দেশের কর্মসংস্থানের সংকট এবং সরকারি চাকরি ঘিরে লাখো তরুণের তীব্র আকাঙ্ক্ষার নির্মম প্রতিচ্ছবি। এত বিপুলসংখ্যক তরুণের ভবিষ্যৎ যখন একটি পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে, তখন প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা অটুট রাখা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব।

বার্তায় আরও বলা হয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ আগের রাত থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। অথচ বহু প্রার্থী দূরদূরান্ত থেকে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং প্রস্তুতির পেছনে অর্থ, সময় ও শ্রম ব্যয় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা পান। তাদের অনেকেই ঋণ করে কিংবা পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে ঢাকায় এসেছেন। শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্ত তাদের আর্থিক ক্ষতি, মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং অভিযোগ সামনে আসার পরও কেন প্রার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো—তার স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।

এনসিপি মনে করে, পরীক্ষা স্থগিত করাই এই সংকটের সমাধান নয়। প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা বা যোগসাজশ ছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসমক্ষে স্পষ্ট তথ্য দেওয়ারও দাবি এনসিপির। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আগাম দায়ী না করে, একই সঙ্গে কাউকে আড়াল না করে, স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপি আরও দাবি জানায়, ১৬ অক্টোবরের নির্ধারিত পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও কেন্দ্রগুলোতে বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা যাচাই এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যারা পরীক্ষা দিতে এসে যাতায়াত ও আবাসনসহ অনিবার্য ব্যয় বহন করেছেন, তাদের ক্ষতিপূরণ বা উপযুক্ত প্রতিকারের বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে।

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্র করে লাখো তরুণ আশায় বুক বাঁধেন। তাদের সেই প্রত্যাশাকে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা কিংবা প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তাহীনতার কাছে জিম্মি করে রাখা যায় না। চাকরিপ্রার্থীদের শ্রম ও মেধার মূল্যায়ন হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে—প্রশ্নপত্র ফাঁস বা কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে নয়।

জাতীয় নাগরিক পার্টি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে, এই ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে একে কেবল একটি স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বার্তায় এনসিপি জানায়, তিন লাখের বেশি চাকরিপ্রার্থীর সময়, অর্থ, শ্রম ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটের মধ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।