ব্যবসাবান্ধব বাজেটে সন্তুষ্ট বিজিএমইএ
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছে তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
শনিবার সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সামষ্টিক অর্থনীতিকে সচল রাখা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এজন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানায় সংগঠনটি।
বিজিএমইএ জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনটির মতে, শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে বাজেটে বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা পাঁচ বছর বজায় রাখার পরিকল্পনা এবং ‘রিস্ক বেইজড অডিট’ চালুর উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়াবে। পাশাপাশি নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করায় খাতটি উপকৃত হবে।
বিজিএমইএ আরও মনে করে, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করা, স্বল্প সময়ে কোম্পানি নিবন্ধন ও লাইসেন্স প্রদান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ওয়ার্ক পারমিট সহজীকরণ এবং অর্থ প্রত্যাবাসন সুবিধা বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের উদ্যোগকেও সংগঠনটি সময়োপযোগী বলে অভিহিত করেছে।
তবে সংগঠনটি তৈরি পোশাক খাতের বিদ্যমান সংকট বিবেচনায় কিছু নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর হার পুনর্বিবেচনা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য সাব-কন্ট্রাক্ট কর অবসান এবং ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি।
এছাড়া ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক শিল্পকে উৎসাহিত করতে আমদানি শুল্ক হ্রাসের দাবিও জানায় সংগঠনটি।
বিজিএমইএ আশা প্রকাশ করে, প্রস্তাবিত বাজেটের সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে।

























