Dhaka ০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভর্তুকিতে টিসিবির ব্যয় ৬৮৪ কোটি টাকা

নিজেস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করতে গিয়ে বড় অঙ্কের ভর্তুকির চাপ সামলাতে হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-কে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সংস্থাটির ভর্তুকি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৮৪ কোটি টাকা, যা মেটাতে সরকারের অর্থ সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে টিসিবির পণ্যের ক্রয় ও বিক্রমূল্যের মধ্যে ঘাটতি মেটাতে ৬৮৪ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩১ টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন।

সিএ ফার্ম এম এ ফজল অ্যান্ড কোং কর্তৃক টিসিবির হিসাব নিরীক্ষা শেষে এই ভর্তুকির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
ভর্তুকি বাড়ার কারণ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা বিক্রি করছে।

একই সময়ে খোলা ট্রাকে করেও টিসিবির পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে এসব পণ্য বিক্রি করার কারণেই মূলত এই ভর্তুকির প্রয়োজন হয়।

চিঠিতে বলা হয়, টিসিবির নিজস্ব কোনো স্থায়ী তহবিল নেই। ফলে পণ্য কেনার জন্য সংস্থাটিকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংক থেকে ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ সুদে এলটিআর ঋণ নিতে হয়।

একদিকে ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি, অন্যদিকে ঋণের উচ্চ সুদ ও ডিলারদের পরিচালনা ব্যয়—সব মিলিয়ে ভর্তুকির পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে।

টিসিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে সংস্থাটির ভর্তুকির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে টিসিবির মোট ভর্তুকি ছিল মাত্র ৮২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই তা দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে প্রায় এক হাজার ৪১২ কোটি টাকায়। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ভর্তুকি বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু ডাল, তেল ও চিনির মতো পণ্যেই ভর্তুকির সিংহভাগ ব্যয় হয়। যেমন—বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল কেনা দামের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

টিসিবি জানায়, আগে নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর বাজারের চাহিদার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ পণ্য টিসিবির মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করায় ভর্তুকির চাপ বাড়ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে টিসিবিকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। এই ঘাটতি পূরণে অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুত অর্থ ছাড় করলে ব্যাংকের দায় পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম

উল্লেখ্য, বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন ভোক্তা ২ লিটার ভোজ্য তেল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি সাশ্রয়ী মূল্যে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে টিসিবির এই ভর্তুকি কার্যক্রম সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ভর্তুকিতে টিসিবির ব্যয় ৬৮৪ কোটি টাকা

Update Time : ০১:৩২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করতে গিয়ে বড় অঙ্কের ভর্তুকির চাপ সামলাতে হচ্ছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-কে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই সংস্থাটির ভর্তুকি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৮৪ কোটি টাকা, যা মেটাতে সরকারের অর্থ সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে টিসিবির পণ্যের ক্রয় ও বিক্রমূল্যের মধ্যে ঘাটতি মেটাতে ৬৮৪ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩১ টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন।

সিএ ফার্ম এম এ ফজল অ্যান্ড কোং কর্তৃক টিসিবির হিসাব নিরীক্ষা শেষে এই ভর্তুকির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
ভর্তুকি বাড়ার কারণ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ভোজ্য তেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা বিক্রি করছে।

একই সময়ে খোলা ট্রাকে করেও টিসিবির পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে এসব পণ্য বিক্রি করার কারণেই মূলত এই ভর্তুকির প্রয়োজন হয়।

চিঠিতে বলা হয়, টিসিবির নিজস্ব কোনো স্থায়ী তহবিল নেই। ফলে পণ্য কেনার জন্য সংস্থাটিকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংক থেকে ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ সুদে এলটিআর ঋণ নিতে হয়।

একদিকে ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি, অন্যদিকে ঋণের উচ্চ সুদ ও ডিলারদের পরিচালনা ব্যয়—সব মিলিয়ে ভর্তুকির পাল্লা দিন দিন ভারী হচ্ছে।

টিসিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে সংস্থাটির ভর্তুকির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে টিসিবির মোট ভর্তুকি ছিল মাত্র ৮২ কোটি টাকা, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই তা দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে প্রায় এক হাজার ৪১২ কোটি টাকায়। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে ভর্তুকি বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু ডাল, তেল ও চিনির মতো পণ্যেই ভর্তুকির সিংহভাগ ব্যয় হয়। যেমন—বিগত বছরগুলোতে দেখা গেছে, মসুর ডাল ও সয়াবিন তেল কেনা দামের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

টিসিবি জানায়, আগে নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর বাজারের চাহিদার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ পণ্য টিসিবির মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে তা অনেক বেড়েছে। কার্যক্রম সম্প্রসারিত হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করায় ভর্তুকির চাপ বাড়ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে টিসিবিকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। এই ঘাটতি পূরণে অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুত অর্থ ছাড় করলে ব্যাংকের দায় পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ পণ্য সংগ্রহ কার্যক্রম

উল্লেখ্য, বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন ভোক্তা ২ লিটার ভোজ্য তেল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ১ কেজি চিনি সাশ্রয়ী মূল্যে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে টিসিবির এই ভর্তুকি কার্যক্রম সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।