Dhaka ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেই খুলবে হরমুজ: আরাগচি

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
4 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিলেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে দেওয়া তেহরানের সাত দিনের প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে ছয় দিনের মধ্যেই প্রণালিটি চালু করা সম্ভব এবং এর পরদিন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাবটি গ্রহণের আহ্বান জানান আরাঘচি। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে রয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব পাঠায় ইরান। ওয়াশিংটন ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে তেহরান। তবে প্রণালি চালুর জন্য ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় আলোচনা এগোচ্ছে না বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান।

আরাঘচি বলেন, সাত দিনের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র তাদের মতামত জানিয়েছে, যা পর্যালোচনা করছে তেহরান। প্রস্তাবটি এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। ওয়াশিংটন আন্তরিক হলে হরমুজ প্রণালি চালুর পথ খোলা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব সংঘাতের ক্ষেত্রে বৈরিতা বন্ধ করা।

দুই দেশের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন এ বিষয়ে সমঝোতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে এবং আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

অন্যদিকে, তেহরানের বক্তব্য, আলোচনার শুরুতেই হরমুজ প্রণালি চালু এবং সেখানে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

সূত্র: রয়টার্স

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

one + six =

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেই খুলবে হরমুজ: আরাগচি

Update Time : ০৩:০১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিলেই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে দেওয়া তেহরানের সাত দিনের প্রস্তাব এখনো বহাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকভাবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে ছয় দিনের মধ্যেই প্রণালিটি চালু করা সম্ভব এবং এর পরদিন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে পারে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাবটি গ্রহণের আহ্বান জানান আরাঘচি। অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে রয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাব পাঠায় ইরান। ওয়াশিংটন ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে তেহরান। তবে প্রণালি চালুর জন্য ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়ায় আলোচনা এগোচ্ছে না বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান।

আরাঘচি বলেন, সাত দিনের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র তাদের মতামত জানিয়েছে, যা পর্যালোচনা করছে তেহরান। প্রস্তাবটি এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। ওয়াশিংটন আন্তরিক হলে হরমুজ প্রণালি চালুর পথ খোলা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক সব সংঘাতের ক্ষেত্রে বৈরিতা বন্ধ করা।

দুই দেশের মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন এ বিষয়ে সমঝোতার ওপর জোর দিয়ে আসছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে এবং আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

অন্যদিকে, তেহরানের বক্তব্য, আলোচনার শুরুতেই হরমুজ প্রণালি চালু এবং সেখানে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো।

সূত্র: রয়টার্স