Dhaka ০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পাঠানো হচ্ছে হাজার হাজার সেনা: রয়টার্স

9 / 100 SEO Score

সময় যত গড়াচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের শঙ্কা ততই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেওয়া মাত্রই মার্কিন বাহিনী অভিযান শুরু করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে ওই দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান কূটনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা আলোচনা করেছেন। তবে এর আগে ইরানে বারবার হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প।

মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিমানবাহী রণতরী ছাড়াও হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেসট্রয়ার এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে নর্থ ক্যারোলিনায় একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, মাঝেমধ্যে তোমাকে ভয় পেতেই হবে। এটাই একমাত্র জিনিস যা আসলে পরিস্থিতির সমাধান করবে।

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, তেহরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব অপশন হাতে আছে।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় মধ্যপ্রাচ্যে দুইটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানটি ছিল মূলত এককালীন মার্কিন আক্রমণ, যেখানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্টিলথ বোমারু বিমান উড়েছিল।

তবে এবারের পরিকল্পনা আরও অনেক জটিল বলে জানান দুই মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, এবার শুধু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নয় দেশটির রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এনিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তেহরানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে।

ইরানের পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলায় আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়বে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাল্টা হামলার ‘প্রত্যাশা’ পুরোপুরি করেই আছে।

অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে যে, তেহরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হবে।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে গত বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, পাঠানো হচ্ছে হাজার হাজার সেনা: রয়টার্স

Update Time : ০৪:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
9 / 100 SEO Score

সময় যত গড়াচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের শঙ্কা ততই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেওয়া মাত্রই মার্কিন বাহিনী অভিযান শুরু করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে ওই দুই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান কূটনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকরা আলোচনা করেছেন। তবে এর আগে ইরানে বারবার হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প।

মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও বিমানবাহী রণতরী ছাড়াও হাজার হাজার সেনা পাঠাচ্ছে। এ ছাড়া যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেসট্রয়ার এবং অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে নর্থ ক্যারোলিনায় একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, মাঝেমধ্যে তোমাকে ভয় পেতেই হবে। এটাই একমাত্র জিনিস যা আসলে পরিস্থিতির সমাধান করবে।

ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, তেহরানের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব অপশন হাতে আছে।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় মধ্যপ্রাচ্যে দুইটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত জুনে ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানটি ছিল মূলত এককালীন মার্কিন আক্রমণ, যেখানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্টিলথ বোমারু বিমান উড়েছিল।

তবে এবারের পরিকল্পনা আরও অনেক জটিল বলে জানান দুই মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেছেন, এবার শুধু ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নয় দেশটির রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এনিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি হবে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, তেহরানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে।

ইরানের পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলায় আঞ্চলিক সংঘাত বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়বে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাল্টা হামলার ‘প্রত্যাশা’ পুরোপুরি করেই আছে।

অন্যদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছে যে, তেহরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো হবে।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে গত বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।