Dhaka ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জার

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 / 100 SEO Score

 

সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের বক্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অপমানজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল কারও কাছ থেকে এই ধরনের বক্তব্য শোনা জাতির জন্য লজ্জার।’

শনিবার (৬ জুন) ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিজ্ঞপ্তিকে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, ‘তিনদিন পার হলেও সালাহ উদ্দীন আহমদ তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। সরকারের পক্ষ থেকেও এই ধরনের বক্তব্যের কোনও নিন্দা জানানো হয়নি। এজন্য আমাদের ধরে নিতে হচ্ছে, সালাহ উদ্দীন আহমদের এই বক্তব্যই সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।’

নাহিদ উল্লেখ করেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন— আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি আপনারা বিস্তারিত জানেন, তাহলে খুশি হবো। বর্ডার কিলিং হচ্ছে— যদি অন্য দেশের বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে কিলিং করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের সীমানার অভ্যন্তরে এবং তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনও রকমের অপরাধে কেউ জড়িত থাকে, যদি কেউ ইললিগ্যাল ট্রেসপাস (অনুপ্রবেশ) করে যায়, সেটা তারা (সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কীভাবে অ্যাড্রেস করবে, তা তাদের দেশীয় আইনে করবে। এটাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তার এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার একটি সহজাত অধিকার। রাষ্ট্রগুলো তাদের আইন দ্বারা এই অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জাতিসংঘের নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র কেবল তখনই ব্যবহার করা যাবে, যখন নিজের বা অন্যের জীবন বাঁচানোর অন্য কোনও উপায় থাকবে না। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন‍্য কোনও অপরাধ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব‍্যব্যবহারের সুযোগ নেই।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে ইতোপূর্বে এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন ফ‍্যাসিবাদী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ভারতের প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু নীতি এবং এর পরিণতি সর্বজনবিদিত। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী কোনও সরকারের এমন অবস্থান অগ্রহণযোগ্য ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ‘জাতির জন্য লজ্জার

Update Time : ০৬:১৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের বক্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অপমানজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল কারও কাছ থেকে এই ধরনের বক্তব্য শোনা জাতির জন্য লজ্জার।’

শনিবার (৬ জুন) ফেসবুকে পোস্ট করা এক বিজ্ঞপ্তিকে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ বলেন, ‘তিনদিন পার হলেও সালাহ উদ্দীন আহমদ তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। সরকারের পক্ষ থেকেও এই ধরনের বক্তব্যের কোনও নিন্দা জানানো হয়নি। এজন্য আমাদের ধরে নিতে হচ্ছে, সালাহ উদ্দীন আহমদের এই বক্তব্যই সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।’

নাহিদ উল্লেখ করেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন— আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি আপনারা বিস্তারিত জানেন, তাহলে খুশি হবো। বর্ডার কিলিং হচ্ছে— যদি অন্য দেশের বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে কিলিং করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের সীমানার অভ্যন্তরে এবং তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনও রকমের অপরাধে কেউ জড়িত থাকে, যদি কেউ ইললিগ্যাল ট্রেসপাস (অনুপ্রবেশ) করে যায়, সেটা তারা (সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কীভাবে অ্যাড্রেস করবে, তা তাদের দেশীয় আইনে করবে। এটাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তার এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার একটি সহজাত অধিকার। রাষ্ট্রগুলো তাদের আইন দ্বারা এই অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জাতিসংঘের নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র কেবল তখনই ব্যবহার করা যাবে, যখন নিজের বা অন্যের জীবন বাঁচানোর অন্য কোনও উপায় থাকবে না। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন‍্য কোনও অপরাধ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব‍্যব্যবহারের সুযোগ নেই।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে ইতোপূর্বে এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন ফ‍্যাসিবাদী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ভারতের প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু নীতি এবং এর পরিণতি সর্বজনবিদিত। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী কোনও সরকারের এমন অবস্থান অগ্রহণযোগ্য ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান।