Dhaka ০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বস্তির বৃষ্টি, কালবৈশাখীর নতুন সতর্কতা

নিজেস্ব প্রতিবেদক
12 / 100 SEO Score

 

কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর বৃষ্টিতে মিলেছে স্বস্তি, তবে এর মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা কালবৈশাখী ঝড়ের।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার বিকেল থেকেই দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। গরমে ক্লান্ত মানুষ যেন হঠাৎই কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ পেয়েছে।

তবে এই স্বস্তির আড়ালেই তৈরি হচ্ছে নতুন আশঙ্কা কালবৈশাখী ঝড়ের।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এই বৃষ্টিপাত একদিনের নয় বরং আগামী কয়েক দিন দেশের আবহাওয়ায় থাকবে এই অস্থিরতার ছাপ।

পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা বায়ুপ্রবাহের কারণে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে, যা বিকেল থেকে রাতের মধ্যে তীব্র আকার নিতে পারে।

আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে, যা কালবৈশাখী ঝড়ের রূপ নিতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় এই বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গরমের তীব্রতা হ্রাস পেলেও, আবহাওয়ার এই অস্থিরতা সহজে কাটবে না।

এ দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্তত ১০ থেকে ১২টি জেলার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যেখানে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। এতে নিচু এলাকা ও শহরের কিছু অংশে সাময়িক জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি নদীবন্দর ও নৌযানগুলোকে সতর্ক সংকেত মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

স্বস্তির বৃষ্টি, কালবৈশাখীর নতুন সতর্কতা

Update Time : ০৫:১৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
12 / 100 SEO Score

 

কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর বৃষ্টিতে মিলেছে স্বস্তি, তবে এর মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা কালবৈশাখী ঝড়ের।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার বিকেল থেকেই দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। গরমে ক্লান্ত মানুষ যেন হঠাৎই কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ পেয়েছে।

তবে এই স্বস্তির আড়ালেই তৈরি হচ্ছে নতুন আশঙ্কা কালবৈশাখী ঝড়ের।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এই বৃষ্টিপাত একদিনের নয় বরং আগামী কয়েক দিন দেশের আবহাওয়ায় থাকবে এই অস্থিরতার ছাপ।

পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা বায়ুপ্রবাহের কারণে কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে, যা বিকেল থেকে রাতের মধ্যে তীব্র আকার নিতে পারে।

আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সময় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে, যা কালবৈশাখী ঝড়ের রূপ নিতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় এই বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গরমের তীব্রতা হ্রাস পেলেও, আবহাওয়ার এই অস্থিরতা সহজে কাটবে না।

এ দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্তত ১০ থেকে ১২টি জেলার ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে, যেখানে ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি হতে পারে। এতে নিচু এলাকা ও শহরের কিছু অংশে সাময়িক জলাবদ্ধতাও তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, বড় গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা এবং অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি নদীবন্দর ও নৌযানগুলোকে সতর্ক সংকেত মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।