বিশ্বাস-ত্যাগেই টিকে আছে তাদের সংসার
দীর্ঘ ৩১ বছরের দাম্পত্য জীবনে নানা ওঠানামা, অভিমান আর বিচ্ছেদের গুঞ্জন পেরিয়েও একসঙ্গে আছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা মৌসুমী ও ওমর সানী। তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পেছনে ভালোবাসার পাশাপাশি বিশ্বাস ও ত্যাগকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ওমর সানী। সম্প্রতি নিজের দাম্পত্য জীবনের গল্প বলতে গিয়ে স্ত্রী মৌসুমীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেছেন এই অভিনেতা।
মৌসুমীর কোন বিষয়টি ওমর সানীকে এখনো সবচেয়ে বেশি টানে—জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’
তবে সানীর কাছে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয়—সন্তানদের মা। ওমর সানী বলেন, ‘একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।’
এরপরই নিজের সংসারের একটি মজার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এই অভিনেতা, ‘দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই–চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।’
তিন দশকের সংসারে মাঝেমধ্যে তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। এসব নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া কী—জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, ‘আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তা–ই। ওরও ভুল হতে পারে। এরকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়। তখন মৌসুমী আমাকে বলে, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’
তবে সব আলোচনা-সমালোচনার বাইরে নিজের অনুভূতি স্পষ্ট করলেন ওমর সানী, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘আসলে হয় কি, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’
মৌসুমীর আরেকটি গুণের কথাও উল্লেখ করেন ওমর সানী, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে—কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করবা, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’




















