লাইসেন্স ছাড়াই ইলমা ফার্মেসির রমরমা ব্যবসা
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার গরীবের চর ডাকঘরের অন্তর্গত বর্তমান আলাওলপুর ইউনিয়নের হাজী ছাদিম আলী ব্যাপারী বাজারে বৈধ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়াই ওষুধ বিক্রি এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘ইলমা মেডিকেল হল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ইউনুস মিয়া ফকির দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফার্মেসি পরিচালনা করে আসছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ড্রাগ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স এবং ফার্মেসি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা সনদ রয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি ছাড়াই সেখানে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ক্রেতা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন রোগের জন্য উচ্চমাত্রার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রার ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য এবং সরকারি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা প্রয়োজন।
এছাড়া ওষুধের গায়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাদের দাবি, অসহায় ও গ্রামীণ ক্রেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ওষুধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফার্মেসির কার্যক্রমের পাশাপাশি কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ বা ভেটেরিনারি সনদ ছাড়াই গবাদিপশু ও অন্যান্য পশুপাখির চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় খামারিদের কয়েকজন দাবি করেছেন, এ ধরনের চিকিৎসার কারণে তাদের পশু অসুস্থতা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামে চিকিৎসা ও ওষুধের সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে কেউ যদি নিয়মের বাইরে চিকিৎসাসেবা বা ওষুধ বিক্রি করেন, তাহলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ‘ইলমা মেডিকেল হল’-এর বৈধ কাগজপত্র, ওষুধ বিক্রির অনুমোদন, ওষুধের মান ও মেয়াদ এবং চিকিৎসাসেবা দেওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মো. ইউনুস মিয়া ফকিরের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের তদন্তের পরই অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।




















