Dhaka ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
7 / 100 SEO Score

 

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফেরাতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শিল্পের আকারের বাধা ছাড়াই এ স্কিমের আওতায় ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য আগের কিছু নির্দেশনা সংশোধন ও নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের বিভিন্ন স্থানে থাকা ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘শিল্প’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে। ফলে স্কিমটির আওতায় সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পের আকারসংক্রান্ত সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে।

স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সুদ পরিশোধ করতে হবে না। ছয় মাস পর থেকে সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।

প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও তখন পরিশোধ করতে হবে। এরপর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে, গ্রাহক পর্যায়ে এ স্কিমের আওতায় ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রাহকদেরও ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ঋণ বিতরণের ছয় মাস পর থেকে সুদ আদায় শুরু করতে হবে। এ সময়ের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও আদায় করা হবে।

নতুন নির্দেশনায় স্কিমের আওতায় প্রাক-অর্থায়ন পাওয়ার আবেদনের সময়সীমাও স্পষ্ট করা হয়েছে। তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে স্কিমের মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়ন সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।

অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মধ্যে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। স্কিমের মেয়াদ তিন বছর হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে তহবিল পর্যাপ্ত (available) থাকলে ব্যাংকগুলো সুবিধাটি নিতে পারবে।

চলতি বছরের ৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি স্কিম গঠন করে। পরবর্তী সময়ে ৭ জুলাই এ-সংক্রান্ত আরও নির্দেশনা জারি করা হয়।

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফেরাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করাই এ স্কিমের মূল উদ্দেশ্য।

সর্বশেষ সার্কুলার লেটারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্কিমটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এর পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সার্কুলার লেটারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

6 − three =

About Author Information

বন্ধ শিল্পে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ

Update Time : ০৬:৩০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
7 / 100 SEO Score

 

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফেরাতে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শিল্পের আকারের বাধা ছাড়াই এ স্কিমের আওতায় ঋণের জন্য আবেদন করা যাবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য আগের কিছু নির্দেশনা সংশোধন ও নতুন নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের বিভিন্ন স্থানে থাকা ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘শিল্প’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে। ফলে স্কিমটির আওতায় সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পের আকারসংক্রান্ত সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে।

স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সুদ পরিশোধ করতে হবে না। ছয় মাস পর থেকে সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।

প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও তখন পরিশোধ করতে হবে। এরপর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে সুদ পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে, গ্রাহক পর্যায়ে এ স্কিমের আওতায় ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রাহকদেরও ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ঋণ বিতরণের ছয় মাস পর থেকে সুদ আদায় শুরু করতে হবে। এ সময়ের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও আদায় করা হবে।

নতুন নির্দেশনায় স্কিমের আওতায় প্রাক-অর্থায়ন পাওয়ার আবেদনের সময়সীমাও স্পষ্ট করা হয়েছে। তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে স্কিমের মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়ন সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।

অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মধ্যে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। স্কিমের মেয়াদ তিন বছর হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে তহবিল পর্যাপ্ত (available) থাকলে ব্যাংকগুলো সুবিধাটি নিতে পারবে।

চলতি বছরের ৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি স্কিম গঠন করে। পরবর্তী সময়ে ৭ জুলাই এ-সংক্রান্ত আরও নির্দেশনা জারি করা হয়।

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও কার্যক্রমে ফেরাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করাই এ স্কিমের মূল উদ্দেশ্য।

সর্বশেষ সার্কুলার লেটারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, স্কিমটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশোধিত নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এর পরিচালক গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সার্কুলার লেটারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।