কদমতলীতে গৃহবধূকে গলাকেটে নিঃসংশ হত্যা
রাজধানীর কদমতলী এলাকার একটি বাসা থেকে ইয়ানুর (২৫) নামের এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজ কক্ষের খাটের নিচ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল রানা পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১০ মিনিটের দিকে কদমতলী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত ইয়ানুর পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে। তিনি কদমতলীর ডিপটির গলির ৬৭০ নম্বর জিএম কাদেরের বাড়িতে বর্তমান ঠিকানায় বসবাস করছিলেন।
কদমতলীর থানার (এসআই) কামরুনাহার পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, ডিপটির গলির জিএম কাদেরের বাড়ির একটি সাবলেট ভাড়া বাসায় স্বামী জুয়েল রানার সঙ্গে থাকতেন ইয়ানুর। প্রায় তিন মাস আগে তারা এই বাসায় ওঠেন। প্রায় দু-তিন মাস যাবত প্রতিদিনই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকতো। গতকাল রাতেও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। রাত থেকে ইয়ানুরের মা ইয়ানুরকে ফোন দিয়ে না পেলে তার ভাইকে বলে ইয়ানুরকে কল দিতে। পরবর্তীতে নিহতের ভাই তাকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। বারবার রিং হলেও ইয়ানুর ফোন রিসিভ না করায় তার ভাইয়ের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আনুমানিক সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি ওই বাসায় যান এবং বাইরে থেকে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে তিনি দরজা ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন। রুমে রক্তের দাগ দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে খাটের নিচে ইয়ানুরের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে আমাদের খবর দিলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো এক সময়ে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ইয়ানুরকে হত্যা করা হয়েছে এবং লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে খুনি পালিয়ে গেছে।
কদমতলী থানা পুলিশ জানায়, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জুয়েল রানা আত্মগোপনে থাকায় তাকেই প্রধান সন্দেহভাজন মনে করছে পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




















