Dhaka ০৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি হুথিদের

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

সৌদি আরবের পক্ষে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা।ইয়েমেন সংঘাত বা সৌদি আরবের পক্ষে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপে যুক্ত হলে দেশ দুটিকে ‘কঠোর ও নির্মম’ জবাব দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি।

আল-বুখাইতি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এতে জড়িত হয়, তবে আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।’ পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের পক্ষে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে তাদের একটি শিক্ষা দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যবর্তী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। এর প্রেক্ষাপটেই হুথিদের পক্ষ থেকে এই বার্তা এলো।

তবে আল-বুখাইতি জানান, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাধারণ জনগণের মনে ইয়েমেনের জন্য গভীর সহানুভূতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই এই হুঁশিয়ারি মূলত তাদের সরকারের জন্য, যদি তারা সামরিকভাবে এতে জড়ায়।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে তিনপক্ষীয় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে যৌথ দায়িত্ব ও সুরক্ষার নীতিতে গঠিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানো। চুক্তি অনুযায়ী, অংশীদার যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সব দেশের ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে।

হুথিদের এই হুমকির মধ্যেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে রয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, ‘সৌদি আরবের হয় তো সামরিক পর্যায়ের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। আমরা বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করব এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে পারি।’ রিয়াদের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জোট পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটিতে যুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বাসনে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথিরা রিয়াদের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে আবার লড়াই তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের অগ্রগতির দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার শুরু থেকেই তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে রিয়াদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ। তবে সম্প্রতি মক্কার কাছে হামলার খবরের পর পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাতকারে বলেন, মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা দেওয়া পাকিস্তানের জন্য ‘চিরন্তন চুক্তি’ ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘পবিত্র কাবা বা আমাদের প্রিয় নবীর জন্মস্থানে হামলা হলে চুক্তির অপেক্ষা না করেই তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।’

পরবর্তীতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীও একই সুর মিলিয়ে বলেন, হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান ‘যেকোনো সীমা পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

20 + two =

About Author Information

তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি হুথিদের

Update Time : ০৫:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

সৌদি আরবের পক্ষে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা।ইয়েমেন সংঘাত বা সৌদি আরবের পক্ষে যেকোনো সামরিক হস্তক্ষেপে যুক্ত হলে দেশ দুটিকে ‘কঠোর ও নির্মম’ জবাব দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হুঁশিয়ারি দেন হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি।

আল-বুখাইতি বলেন, ‘আল্লাহর কসম, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এতে জড়িত হয়, তবে আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।’ পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের পক্ষে ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে তাদের একটি শিক্ষা দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যবর্তী যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। এর প্রেক্ষাপটেই হুথিদের পক্ষ থেকে এই বার্তা এলো।

তবে আল-বুখাইতি জানান, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাধারণ জনগণের মনে ইয়েমেনের জন্য গভীর সহানুভূতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই এই হুঁশিয়ারি মূলত তাদের সরকারের জন্য, যদি তারা সামরিকভাবে এতে জড়ায়।

চলতি বছরের ৭ আগস্ট তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে তিনপক্ষীয় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে যৌথ দায়িত্ব ও সুরক্ষার নীতিতে গঠিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানো। চুক্তি অনুযায়ী, অংশীদার যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সব দেশের ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে।

হুথিদের এই হুমকির মধ্যেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে। জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে রয়েছে।

হাকান ফিদান বলেন, ‘সৌদি আরবের হয় তো সামরিক পর্যায়ের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। আমরা বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করব এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে পারি।’ রিয়াদের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জোট পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই দেশটিতে যুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে পুনর্বাসনে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে হুথিরা রিয়াদের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে আবার লড়াই তীব্র হয়। সাম্প্রতিক সময়ে লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিজেদের অগ্রগতির দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার শুরু থেকেই তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে রিয়াদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ। তবে সম্প্রতি মক্কার কাছে হামলার খবরের পর পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক সাক্ষাতকারে বলেন, মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা দেওয়া পাকিস্তানের জন্য ‘চিরন্তন চুক্তি’ ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘পবিত্র কাবা বা আমাদের প্রিয় নবীর জন্মস্থানে হামলা হলে চুক্তির অপেক্ষা না করেই তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।’

পরবর্তীতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীও একই সুর মিলিয়ে বলেন, হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান ‘যেকোনো সীমা পর্যন্ত’ যেতে প্রস্তুত।