Dhaka ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় কিশোর গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
10 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। সে সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে, চাপা দেয় মেহেদীকে। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। তার বাবার নাম এরশাদুল হক। বাড়ি নীলফামারীর ডোমার থানার সোনারায় হাজীপাড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে ছিল এক কিশোর। কিন্তু মামলায় ওই কিশোরের নাম দেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে হস্তান্তরও করে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গ্রেফতার করা হয় ওই কিশোরকে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী

গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার কিশোর গাড়ির মালিকের ছেলে। তার নাম আজান আলী শরীফ (১৭)।

নাম প্রকাশ না করে পুলিশের গুলশান বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ গাড়ির চালককে আটক করে। দুর্ঘটনার পর চালক যেহেতু পালিয়ে গেছে, সেহেতু আমরা ধরে নিয়েছি চালকই অভিযুক্ত। এছাড়া মামলাতেও শুধু ওই চালকের নাম রয়েছে। এর ভিত্তিতে ধারণা করা হয়েছে অপরাধী গাড়ির চালক, এজন্য সে পালিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু পরে যখন আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, তখন বুঝতে পেরেছি ওই কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিল। তখন তাকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

সূত্র বলছে, এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করে গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ১ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের নির্মাণাধীন সাইটের বিপরীত পাশে ১৩ নম্বর বাসার সামনে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান। এ সময় তার ডান দিক থেকে বেপরোয়া গতির একটি ডার্ক ব্লু রঙের প্রোটন প্রাইভেট কার (রেজি: নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১৮-৬৬৭৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে মেহেদীকে চাপা দেয়। এতে সে মাথায়, বুক-পিঠের ডান পাশে, অণ্ডকোষসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।

সংবাদ পেয়ে বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মেহেদীকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঘোষণা করেন তিনি হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ বের করে আনে। এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে মোক্তাদীর ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে ওই কিশোর ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়িটির চালকের আসনে কিশোরটি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজেও। সিসিটিভির ক্যামেরার ওই ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেট কারটি একটি সড়কবাতির পোস্টে লেগে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে আসেন।

গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরকে নামতে দেখা যায়। গাড়ির অপর পাশ থেকে নামেন শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি।

আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান নেন। পরে কিশোরটিকে সেখান থেকে এক পাশে সরে যেতে দেখা যায়। পরে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন ক্ষুব্ধ লোকজন। কিন্তু এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম নেই।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

18 − 17 =

About Author Information

শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় কিশোর গ্রেফতার

Update Time : ০৬:৪৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর বারিধারার ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। সে সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে, চাপা দেয় মেহেদীকে। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী। তার বাবার নাম এরশাদুল হক। বাড়ি নীলফামারীর ডোমার থানার সোনারায় হাজীপাড়ায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে ছিল এক কিশোর। কিন্তু মামলায় ওই কিশোরের নাম দেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে হস্তান্তরও করে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে গ্রেফতার করা হয় ওই কিশোরকে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাপ্পী

গুলশান থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার কিশোর গাড়ির মালিকের ছেলে। তার নাম আজান আলী শরীফ (১৭)।

নাম প্রকাশ না করে পুলিশের গুলশান বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সাধারণত এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে পুলিশ গাড়ির চালককে আটক করে। দুর্ঘটনার পর চালক যেহেতু পালিয়ে গেছে, সেহেতু আমরা ধরে নিয়েছি চালকই অভিযুক্ত। এছাড়া মামলাতেও শুধু ওই চালকের নাম রয়েছে। এর ভিত্তিতে ধারণা করা হয়েছে অপরাধী গাড়ির চালক, এজন্য সে পালিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু পরে যখন আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, তখন বুঝতে পেরেছি ওই কিশোরই গাড়ি চালাচ্ছিল। তখন তাকে গুলশানের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

সূত্র বলছে, এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করে গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ১ নম্বর সড়কের ১৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের নির্মাণাধীন সাইটের বিপরীত পাশে ১৩ নম্বর বাসার সামনে ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান। এ সময় তার ডান দিক থেকে বেপরোয়া গতির একটি ডার্ক ব্লু রঙের প্রোটন প্রাইভেট কার (রেজি: নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১৮-৬৬৭৬) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে মেহেদীকে চাপা দেয়। এতে সে মাথায়, বুক-পিঠের ডান পাশে, অণ্ডকোষসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে।

সংবাদ পেয়ে বিকেল আনুমানিক ৫টা ২০ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মেহেদীকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঘোষণা করেন তিনি হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গাড়ির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত দেহ বের করে আনে। এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে ওই কিশোরের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে মোক্তাদীর ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ জনতার হাতে যাতে ওই কিশোর ‘মবের শিকার’ না হয়, সে জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার রাতে তার চাচার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

গুলশান থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গাড়িটির চালকের আসনে কিশোরটি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে দুর্ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজেও। সিসিটিভির ক্যামেরার ওই ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর প্রাইভেট কারটি একটি সড়কবাতির পোস্টে লেগে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে আসেন।

গাড়ির ডান পাশ অর্থাৎ চালকের আসন থেকে কালো টি-শার্ট পরা কিশোরকে নামতে দেখা যায়। গাড়ির অপর পাশ থেকে নামেন শার্ট পরা মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি।

আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দুজনই গাড়ির পাশে অবস্থান নেন। পরে কিশোরটিকে সেখান থেকে এক পাশে সরে যেতে দেখা যায়। পরে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেন ক্ষুব্ধ লোকজন। কিন্তু এ ঘটনায় করা মামলায় ওই কিশোরের নাম নেই।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গাড়িটির চালক আকাশ মারক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দেন। এতে তার মাথা, বুক ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, আকাশ মারক ঘটনার পর থেকে পলাতক। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।