Dhaka ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইমন যুবলীগের নেতা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।

তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ ও ১১টি কালো কস্টেপ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তিন কার্টুনে রাখা কাগজের তৈরি মোট ৯ হাজার মুখোশ, মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়েছে।

মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইমন পুলিশকে জানিয়েছে, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময়ের মিছিলে এসব মুখোশ ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × 1 =

About Author Information

কেরানীগঞ্জে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ডিএমপি

Update Time : ০৬:২২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ইমন যুবলীগের নেতা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া।

তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার তদন্তে ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুরসহ সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়।

এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় সেখান থেকে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ ও ১১টি কালো কস্টেপ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তিন কার্টুনে রাখা কাগজের তৈরি মোট ৯ হাজার মুখোশ, মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়েছে।

মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইমন পুলিশকে জানিয়েছে, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়। পরে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে সেগুলো তার বাসায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময়ের মিছিলে এসব মুখোশ ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা রয়েছে।