Dhaka ০৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে শিশু মাহিদাকে হত্যা করে তার চাচা

জেলা প্রতিনিধি
8 / 100 SEO Score

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আন্দিদিল গ্রামে সাত বছর বয়সী শিশু মাহিদাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার চাচা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় অভিযুক্ত চাচা জাহিদুল ইসলামকে (২০) একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত জাহিদুল ওই গ্রামের মৃত মো. শাহ আলমের ছেলে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জাহিদুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার দ্রুত বিচারকাজ সম্পাদনে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দিদিল গ্রামের সৌদি প্রবাসীর চার সন্তানের মধ্যে মেজো মাহিদা স্থানীয় ফাতেমাতুন্নেছা বালিকা মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটিতে মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে শিশুটি। শুক্রবার দুপুরে মাহিদার মা তার অসুস্থ ছোট ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় তালশহর বাজারে যান।

অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে চাচাতো চাচা মো. জাহিদুল ইসলাম পানি দেওয়ার কথা বলে মাহিদাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মাহিদার মা বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে জাহিদুলের ঘরে খোঁজ করতে যান। এ সময় জাহিদুলের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে তল্লাশি চালিয়ে পাশের একটি কক্ষ থেকে মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান যে শিশুর শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা জাহিদুলকে ঘরে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১টার দিকে জানাজা শেষে গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত মাহিদার স্বজন ও এলাকাবাসী কোমলমতি শিশুটির এমন করুণ পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

মাহিদার চাচা মো. সজিব বলেন, স্বজনের হাতে শিশুটির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আমরা অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

fourteen − four =

About Author Information

ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে শিশু মাহিদাকে হত্যা করে তার চাচা

Update Time : ০৫:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আন্দিদিল গ্রামে সাত বছর বয়সী শিশু মাহিদাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার চাচা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিহত শিশুটির মা বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় অভিযুক্ত চাচা জাহিদুল ইসলামকে (২০) একমাত্র আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত জাহিদুল ওই গ্রামের মৃত মো. শাহ আলমের ছেলে।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী জানান, মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার জাহিদুল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার দ্রুত বিচারকাজ সম্পাদনে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দিদিল গ্রামের সৌদি প্রবাসীর চার সন্তানের মধ্যে মেজো মাহিদা স্থানীয় ফাতেমাতুন্নেছা বালিকা মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটিতে মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে শিশুটি। শুক্রবার দুপুরে মাহিদার মা তার অসুস্থ ছোট ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় তালশহর বাজারে যান।

অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে চাচাতো চাচা মো. জাহিদুল ইসলাম পানি দেওয়ার কথা বলে মাহিদাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মাহিদার মা বাড়ি ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে জাহিদুলের ঘরে খোঁজ করতে যান। এ সময় জাহিদুলের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে তল্লাশি চালিয়ে পাশের একটি কক্ষ থেকে মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং জানান যে শিশুর শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা জাহিদুলকে ঘরে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১টার দিকে জানাজা শেষে গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত মাহিদার স্বজন ও এলাকাবাসী কোমলমতি শিশুটির এমন করুণ পরিণতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

মাহিদার চাচা মো. সজিব বলেন, স্বজনের হাতে শিশুটির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। আমরা অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।