Dhaka ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবার জন্য নিরাপদ আবাসন সময়ের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
10 / 100 SEO Score

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আরও অনেকগুলো বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই আবাসন বলতে কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানকে বোঝায়। সব নাগরিকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই আবাসন।

তারেক রহমান বলেন, সব নাগরিকের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে ততটা সহজ নয়। তবু প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বেরসঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থানই নয় বরং সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভারপপুলেটেড (জনাকীর্ণ)। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ এই ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এই বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। তবে সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবাসম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সকল পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা একটি কার্যকর বিকল্প বলেও সরকার মনে করে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী এবং কতিপয় বড় শহরের যে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন, তার বাইরে এসে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদেরকে নানারকম চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা উভয়েরই মুখোমুখি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায়, বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ দ্রুততার সঙ্গে ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের নগর বা শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সংগত কারণেই কিছুটা কষ্টসাধ্য। সে ক্ষেত্রে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবাসম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

9 − 6 =

About Author Information

সবার জন্য নিরাপদ আবাসন সময়ের দাবি

Update Time : ০৬:১৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
10 / 100 SEO Score

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আরও অনেকগুলো বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই আবাসন বলতে কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং নিরাপদ পানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়োনিষ্কাশন, সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানকে বোঝায়। সব নাগরিকের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই আবাসন।

তারেক রহমান বলেন, সব নাগরিকের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে ততটা সহজ নয়। তবু প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বেরসঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থানই নয় বরং সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বেড়েই চলেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা ওভারপপুলেটেড (জনাকীর্ণ)। দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রায় একই অবস্থা। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ এই ধারণাটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।

তবে এই বিষয়গুলো বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় এর বাস্তবায়ন ততটাই কঠিন। তবে সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবাসম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির ১১ নম্বর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরাঞ্চলে জনগণের চাপ কমাতে সম্ভাব্য সকল পরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করছে। রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানোর পরিকল্পনা একটি কার্যকর বিকল্প বলেও সরকার মনে করে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান নগরায়ণ পরিস্থিতিতে রাজধানী এবং কতিপয় বড় শহরের যে কেন্দ্রীভূত উন্নয়ন, তার বাইরে এসে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়, বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। সরকার ইতোমধ্যেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারা বাংলাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার চারপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আমাদেরকে নানারকম চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা উভয়েরই মুখোমুখি করছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায়, বিশেষত সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে নানাবিধ পদক্ষেপ দ্রুততার সঙ্গে ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের নগর বা শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে সংগত কারণেই কিছুটা কষ্টসাধ্য। সে ক্ষেত্রে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবাসম্বলিত বাসস্থান তথা সর্বজনীন আবাসন নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার। নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।