Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমার মতো মানুষকে’ নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চায় না কমিটি: ট্রাম্পে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
8 / 100 SEO Score

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না মিললেও ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই পাওয়া উচিত বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তার ঝুলিতে উঠবে কি না, তা নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে, আমি জানি না। আগামী শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা করবে।

ট্রাম্পের কথায়, নোবেল কমিটির ‘আমার মতো মানুষকে’ পুরস্কার না দেওয়ার এক ধরনের পরিচিতি বা সুনাম আছে। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার ফিরে আসার পর থেকেই তিনি বারবার দাবি করে আসছেন যে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তার প্রাপ্য।

‘এখন সেই সময় এসেছে’ এভাবেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গতবারের প্রাপকের কথাও উল্লেখ করেন। সেই ব্যক্তি পরোক্ষভাবে বলেছিলেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এই পুরস্কারের বেশি যোগ্য আর কেউ নেই। এতে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলেন ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় নিজের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছিলেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব মনোনয়নের সত্যতা যাচাই করার কোনো উপায় নেই।

যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি তিনি করেছেন, সেগুলোর কয়েকটিতে তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। কিছু অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের পরিস্থিতিও এর মধ্যে পড়ে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও থামাতে পারেননি তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়ে তুলেছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক।

সূত্র: রয়টার্স

 

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

4 × five =

About Author Information

‘আমার মতো মানুষকে’ নোবেল শান্তি পুরস্কার দিতে চায় না কমিটি: ট্রাম্পে

Update Time : ০৭:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইউক্রেন সংকট সমাধানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না মিললেও ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজেরই পাওয়া উচিত বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শেষ পর্যন্ত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তার ঝুলিতে উঠবে কি না, তা নিয়ে নিজেই সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে, আমি জানি না। আগামী শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের ঘোষণা করবে।

ট্রাম্পের কথায়, নোবেল কমিটির ‘আমার মতো মানুষকে’ পুরস্কার না দেওয়ার এক ধরনের পরিচিতি বা সুনাম আছে। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বার ফিরে আসার পর থেকেই তিনি বারবার দাবি করে আসছেন যে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার তার প্রাপ্য।

‘এখন সেই সময় এসেছে’ এভাবেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গতবারের প্রাপকের কথাও উল্লেখ করেন। সেই ব্যক্তি পরোক্ষভাবে বলেছিলেন, ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে এই পুরস্কারের বেশি যোগ্য আর কেউ নেই। এতে নিজেকে অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করেছিলেন ট্রাম্প।

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন। তিনি ভেনেজুয়েলায় নিজের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছিলেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কার তার পাওয়া উচিত। কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব মনোনয়নের সত্যতা যাচাই করার কোনো উপায় নেই।

যেসব সংঘাত সমাধানের দাবি তিনি করেছেন, সেগুলোর কয়েকটিতে তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। কিছু অঞ্চলে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের পরিস্থিতিও এর মধ্যে পড়ে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও থামাতে পারেননি তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর সাত মাস ধরে চলা সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়ে তুলেছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক।

সূত্র: রয়টার্স