দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, আটক শীর্ষ নেতারা
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানী দিল্লি। আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকেসহ দলটির শীর্ষ নেতারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে সন্ধ্যার পর তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেওয়া হলেও অভিজিৎ ও দলের আরও দুই শীর্ষ নেতার অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
দাবি অনুযায়ী যেহেতু প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেননি তাই অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ পার্টি। তারা বলেছে, জ্ঞানেশ কুমারকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
ককরোচ পার্টির এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কাল শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। গতকাল ও আজ দেশটির বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। এরসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় বাস চলাচল। আর দিল্লিতেই থাকা বিক্ষোভকারীরা যেন বিক্ষোভস্থল যন্তরমন্তর না আসতে পারেন, সেজন্য সেখানকার মেট্রো সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দিনের প্রথম উত্তেজনা দেখা দেয় যখন অভিজিৎ মুম্বাই থেকে বিমানে করে দিল্লিতে আসেন। তাকে বহনকারী বিমানটি নামার সাথে সাথে পুলিশ এটির ভেতর প্রবেশ করে। এরপর বিমান থেকে তাকে নামিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা সকাল থেকেই যন্তরমন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই শুরু হয় পুলিশের নতুন করে ধরপাকড়। এ সময় যন্তরমন্তরের কাছে যারাই যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের আটক করে পুলিশ ভ্যানে বা বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এছাড়া বিক্ষোভে সমর্থন জানানোয় সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীকে আটকের ঘটনা ঘটে। যারমধ্যে আছেন পশ্চিমবঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেরজরিওয়াল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মমতা এখনো পুলিশের জিম্মায় আছেন।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক যন্তরমন্তর থেকে সরাসরি জানান, সেখানে কোনো বিক্ষোভকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ওই জায়গায় শত শত পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়। তারা লোহার শক্তিশালী ব্যারিকেড দেন। যেগুলো টপকে বিক্ষোভকারীদের সেখানে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে ককরোচ পার্টি থেকে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশনা দেওয়া, যেখানেই পুলিশ বাধা দেবে সেখানেই যেন অবস্থান নেওয়া হয়।
দিল্লি ছাড়াও মুম্বাইসহ অন্যান্য জায়গায়ও বিক্ষোভ হয়। সেখান থেকেও বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ।
যখন পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনা চলছিল তখন খবর আসে অভিজিতের দাদি মারা গেছেন। যা সবার জন্য একটি খারাপ খবর হয়ে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিজিৎকে সঙ্গে সঙ্গে তার দাদির মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ককরোচ পার্টি জানিয়েছে, গত ১০ ঘণ্টা ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। তারা তাকে তার মৃত দাদির কাছে যেতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিটি দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন দেশটির তরুণরা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় তারা বিক্ষোভ করেছেন। সর্বশেষ যন্তরমন্তরে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেন তারা। কিন্তু জ্ঞানেশ যেহেতু পদত্যাগ করেননি, তাই তাকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ পার্টির নেতারা। অভিজিৎ দ্বীপকেসহ শীর্ষ তিন নেতা আটক হওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন অজিঙ্কা সিন্ধে।
অভিজিৎ আটকের পূর্বেই রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে অজিঙ্কার নাম বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যন্তরমন্তরের আন্দোলনের দায়িত্বে থাকবেন অজিঙ্কা।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিশ্চিত এবং তরুণ বিক্ষোভকারীদের আটকের প্রতিবাদে আগামী সোমবার বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, গত এক যুগে ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে মোদি ও তার দলের লোক। কিন্তু এগুলো আর হতে দেওয়া হবে না। এছাড়া তিনি তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানী শহরে সারাদিন ধরে উত্তেজনা চললেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তিনি একদমই চুপ আছেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন, মোদিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে জ্ঞানেন্দ্র কুমার ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারকে বাদ দিয়েছেন।




















