Dhaka ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় তরুণদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান নাহিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ভারতীয় তরুণ ও গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের তরুণ ও গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর প্রতি সংহতি জানান নাহিদ ইসলাম।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটক, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপ মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব বাধা ও সেন্সরশিপের মাধ্যমে নয়, বরং স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের তরুণদের সংগ্রাম পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই বছরের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, ওই অভ্যুত্থান ও তা দমনের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের আন্দোলনের সময় ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন মতপ্রকাশকারীদের সংহতির কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম।

ভারতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লির শাহিনবাগে নারীদের আন্দোলন এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতের রাজপথে তরুণীদের সাহসী ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও নারীরা সামনের সারিতে ছিলেন এবং তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ আন্দোলনের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরোধিতা করা প্রয়োজন। ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে থাকলে, ভিন্নমত প্রকাশ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলে এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার নির্ধারিত হলে কোনো সমাজকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক বলা যায় না।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি আহ্বানও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। এর মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, আটক আন্দোলন-সংগঠকদের অবস্থান ও আটকের আইনি ভিত্তি প্রকাশ করা এবং অধিকার চর্চার কারণে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তাদের সরঞ্জাম জব্দ না করে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে ভারতের তরুণ আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী শরজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গও তোলা হয়। বিচার ছাড়াই বছরের পর বছর তাদের আটক রাখার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম তাদেরসহ ভারতের তরুণ বিক্ষোভকারী ও বিবেকের বন্দীদের সহযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁদের সাহস দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের অনুপ্রাণিত করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অমীমাংসিত সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলোও দুই দেশের জনগণের সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবৃতিতে বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমতা, সরকারগুলোর জবাবদিহি এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

বিবৃতির শেষাংশে ভারতের গণতন্ত্রপন্থী জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তরুণদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান তিনি।

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বিবৃতিটি শেষ করেন নাহিদ ইসলাম।

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ten − eight =

About Author Information

ভারতীয় তরুণদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান নাহিদের

Update Time : ০৬:১২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
8 / 100 SEO Score

 

ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ভারতীয় তরুণ ও গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের তরুণ ও গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর প্রতি সংহতি জানান নাহিদ ইসলাম।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী, সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটক, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপ মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব বাধা ও সেন্সরশিপের মাধ্যমে নয়, বরং স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলের তরুণদের সংগ্রাম পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই বছরের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী গুলি চালানো হয়। জাতিসংঘের হিসাবে, ওই অভ্যুত্থান ও তা দমনের ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের আন্দোলনের সময় ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন মতপ্রকাশকারীদের সংহতির কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম।

ভারতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দিল্লির শাহিনবাগে নারীদের আন্দোলন এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ভারতের রাজপথে তরুণীদের সাহসী ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও নারীরা সামনের সারিতে ছিলেন এবং তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ আন্দোলনের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশেই কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার বিরোধিতা করা প্রয়োজন। ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে এ অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংখ্যালঘুরা ভয়ের মধ্যে থাকলে, ভিন্নমত প্রকাশ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হলে এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার নির্ধারিত হলে কোনো সমাজকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক বলা যায় না।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি আহ্বানও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। এর মধ্যে রয়েছে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, আটক আন্দোলন-সংগঠকদের অবস্থান ও আটকের আইনি ভিত্তি প্রকাশ করা এবং অধিকার চর্চার কারণে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তাদের সরঞ্জাম জব্দ না করে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে ভারতের তরুণ আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী শরজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গও তোলা হয়। বিচার ছাড়াই বছরের পর বছর তাদের আটক রাখার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম তাদেরসহ ভারতের তরুণ বিক্ষোভকারী ও বিবেকের বন্দীদের সহযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁদের সাহস দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের অনুপ্রাণিত করছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অমীমাংসিত সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলোও দুই দেশের জনগণের সংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবৃতিতে বলা হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমতা, সরকারগুলোর জবাবদিহি এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

বিবৃতির শেষাংশে ভারতের গণতন্ত্রপন্থী জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তরুণদের ঐক্যবদ্ধ থাকা, পরস্পরের পাশে দাঁড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান তিনি।

‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে বিবৃতিটি শেষ করেন নাহিদ ইসলাম।