Dhaka ০৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১২ দামে

নিজস্ব প্রতিবেদক
4 / 100 SEO Score

 

সরকার নির্ধারিত চারটি মূল্যস্তর থাকলেও দেশের বাজারে ১২টি ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে ৫৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট। মূল্যস্তরগুলোর সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দ যুক্ত থাকায় একই স্তরে বিভিন্ন দামের সিগারেট বাজারজাতের সুযোগ পাচ্ছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে কর ও মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার কমানোর সরকারি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন খুচরা বিক্রেতার মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত জানানো হয়। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা যায়।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, শুধু নিম্নস্তরেই আটটি ভিন্ন দামে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। এ স্তরের সবচেয়ে দামি সিগারেটের দাম ৯০ টাকা, আর মধ্যমস্তরের নির্ধারিত দাম ৯২ টাকা। অর্থাৎ দুই স্তরের সিগারেটের দামের ব্যবধান মাত্র দুই টাকা।

প্রজ্ঞার জরিপ অনুযায়ী, নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব। এর ফলে এ স্তরে ৬৫ থেকে ৯১ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে সিগারেট বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে অন্য মূল্যস্তরগুলোতেও বিভিন্ন দামে ব্র্যান্ড বিক্রির সুযোগ রয়েছে।

প্রজ্ঞার তথ্যমতে, একই মূল্যস্তরে বিভিন্ন দামের সিগারেট পাওয়া যাওয়ায় দাম বাড়লে ক্রেতারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কম দামি ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারেন। ফলে কর ও মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সিগারেটের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দিতে পারছে না। এ পরিস্থিতির জন্য ত্রুটিপূর্ণ সিগারেট করকাঠামোকে দায়ী করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, তামাকবিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি, সিগারেটের মূল্যস্তর পর্যায়ক্রমে চারটি থেকে কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনা। বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে প্রজ্ঞা বলছে, একক মূল্যস্তরে দাম ও কর বাড়ানো হলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সহজ হয়। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ধূমপান কমানো এবং নতুন করে ধূমপান শুরুতে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

জরিপের ভিত্তিতে প্রজ্ঞা সিগারেটের মূল্যস্তরগুলোর সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি বাদ দিয়ে প্রতিটি স্তরে একক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে চারটি মূল্যস্তর কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রজ্ঞার মতে, এ ধরনের পরিবর্তন আনা হলে বিভিন্ন দামে সিগারেট বাজারজাতের সুযোগ কমবে। এতে কর ও মূল্যবৃদ্ধির কার্যকারিতা বাড়বে এবং তামাকের ব্যবহার কমাতে সরকারের উদ্যোগ আরও ফলপ্রসূ হতে পারে।

Tag :

Recent Comments

No comments to show.

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

four + seven =

About Author Information

৫৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ১২ দামে

Update Time : ১২:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
4 / 100 SEO Score

 

সরকার নির্ধারিত চারটি মূল্যস্তর থাকলেও দেশের বাজারে ১২টি ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে ৫৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট। মূল্যস্তরগুলোর সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দ যুক্ত থাকায় একই স্তরে বিভিন্ন দামের সিগারেট বাজারজাতের সুযোগ পাচ্ছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে কর ও মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার কমানোর সরকারি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের ৮০ জন খুচরা বিক্রেতার মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত জানানো হয়। জরিপের তথ্য বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা যায়।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, শুধু নিম্নস্তরেই আটটি ভিন্ন দামে সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। এ স্তরের সবচেয়ে দামি সিগারেটের দাম ৯০ টাকা, আর মধ্যমস্তরের নির্ধারিত দাম ৯২ টাকা। অর্থাৎ দুই স্তরের সিগারেটের দামের ব্যবধান মাত্র দুই টাকা।

প্রজ্ঞার জরিপ অনুযায়ী, নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব। এর ফলে এ স্তরে ৬৫ থেকে ৯১ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামে সিগারেট বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে অন্য মূল্যস্তরগুলোতেও বিভিন্ন দামে ব্র্যান্ড বিক্রির সুযোগ রয়েছে।

প্রজ্ঞার তথ্যমতে, একই মূল্যস্তরে বিভিন্ন দামের সিগারেট পাওয়া যাওয়ায় দাম বাড়লে ক্রেতারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কম দামি ব্র্যান্ড বেছে নিতে পারেন। ফলে কর ও মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সিগারেটের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দিতে পারছে না। এ পরিস্থিতির জন্য ত্রুটিপূর্ণ সিগারেট করকাঠামোকে দায়ী করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে, তামাকবিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি, সিগারেটের মূল্যস্তর পর্যায়ক্রমে চারটি থেকে কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনা। বৈশ্বিক বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে প্রজ্ঞা বলছে, একক মূল্যস্তরে দাম ও কর বাড়ানো হলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সহজ হয়। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ধূমপান কমানো এবং নতুন করে ধূমপান শুরুতে নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

জরিপের ভিত্তিতে প্রজ্ঞা সিগারেটের মূল্যস্তরগুলোর সঙ্গে ‘তদূর্ধ্ব’ শব্দটি বাদ দিয়ে প্রতিটি স্তরে একক মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে চারটি মূল্যস্তর কমিয়ে একটিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রজ্ঞার মতে, এ ধরনের পরিবর্তন আনা হলে বিভিন্ন দামে সিগারেট বাজারজাতের সুযোগ কমবে। এতে কর ও মূল্যবৃদ্ধির কার্যকারিতা বাড়বে এবং তামাকের ব্যবহার কমাতে সরকারের উদ্যোগ আরও ফলপ্রসূ হতে পারে।